ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন

বিনোদন ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তারকাদের চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক মাধ্যম পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখান থেকে ওই ভিডিওগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুঃখ প্রকাশ করলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক থামেনি। এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের মাধ্যমে মিথ্যা কনটেন্ট বানিয়ে কাউকে হেয় করা কোনো বিনোদন হতে পারে না। তার মতে, এই ধরনের অপকর্ম যখন শত শত মানুষ অবলীলায় শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না বরং একটি বড় সামাজিক সংকটে রূপ নেয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ডিপফেক কনটেন্টের শিকার যদি নিজেদের পরিবারের কেউ হতেন, তবে কি মানুষ এমন আচরণ করতেন? তবে তিনি কাউকে অসম্মান করার ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কের যুক্তি টানতেও নারাজ, কারণ মানুষ হিসেবে সবারই সম্মান পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক এবং ট্রেন্ডিংয়ে থাকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি অনলাইনে কনটেন্ট বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার অর্থনৈতিক সংগ্রামকে অস্বীকার করেননি, তবে প্রশ্ন তুলেছেন যে কবে থেকে অন্যের অপমান ও অসম্মান উপার্জনের পথ হয়ে উঠল। জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ অর্জনের লোভে অন্যকে অপদস্থ করার এই প্রবণতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এই ক্ষতিকর সংস্কৃতি এখন নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এ ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে ও শিকারে যে কেউ জড়িয়ে পড়তে পারেন।

মূলত ভিডিও তৈরি করার চেয়েও যারা স্বেচ্ছায় এসব ক্ষতিকর উপাদান শেয়ার করছেন এবং অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকা নিয়ে বেশি চিন্তিত মেহজাবীন। পোস্টের শেষ পর্যায়ে তিনি এসব কনটেন্ট প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধীর অপরাধে অংশীদার হয়ে নিজেদের বিবেকহীনতার পরিচয় দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে যেন সবাই গভীরভাবে ভেবে দেখেন। সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অপরাধের এই যুগে তার এই বক্তব্য সচেতনতা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মেহজাবীন

প্রকাশিত ১২:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তারকাদের চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক মাধ্যম পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখান থেকে ওই ভিডিওগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুঃখ প্রকাশ করলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক থামেনি। এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের মাধ্যমে মিথ্যা কনটেন্ট বানিয়ে কাউকে হেয় করা কোনো বিনোদন হতে পারে না। তার মতে, এই ধরনের অপকর্ম যখন শত শত মানুষ অবলীলায় শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না বরং একটি বড় সামাজিক সংকটে রূপ নেয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ডিপফেক কনটেন্টের শিকার যদি নিজেদের পরিবারের কেউ হতেন, তবে কি মানুষ এমন আচরণ করতেন? তবে তিনি কাউকে অসম্মান করার ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কের যুক্তি টানতেও নারাজ, কারণ মানুষ হিসেবে সবারই সম্মান পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভিউ, লাইক এবং ট্রেন্ডিংয়ে থাকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি অনলাইনে কনটেন্ট বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার অর্থনৈতিক সংগ্রামকে অস্বীকার করেননি, তবে প্রশ্ন তুলেছেন যে কবে থেকে অন্যের অপমান ও অসম্মান উপার্জনের পথ হয়ে উঠল। জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ অর্জনের লোভে অন্যকে অপদস্থ করার এই প্রবণতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এই ক্ষতিকর সংস্কৃতি এখন নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এ ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে ও শিকারে যে কেউ জড়িয়ে পড়তে পারেন।

মূলত ভিডিও তৈরি করার চেয়েও যারা স্বেচ্ছায় এসব ক্ষতিকর উপাদান শেয়ার করছেন এবং অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকা নিয়ে বেশি চিন্তিত মেহজাবীন। পোস্টের শেষ পর্যায়ে তিনি এসব কনটেন্ট প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধীর অপরাধে অংশীদার হয়ে নিজেদের বিবেকহীনতার পরিচয় দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে যেন সবাই গভীরভাবে ভেবে দেখেন। সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অপরাধের এই যুগে তার এই বক্তব্য সচেতনতা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।