স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাগেরহাটের উপকূলীয় জনপদে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সুপেয় পানির সংকট বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। পুকুর, জলাশয় ও নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা থাকায় দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালের বৃষ্টির পানি দিয়ে মাত্র দুই থেকে তিন মাস চললেও বছরের বাকি সময় এই লবণাক্ত পানির ওপরই নির্ভর করতে হয় এলাকাবাসীকে। সুপেয় পানির এই দীর্ঘস্থায়ী অভাব উপকূলের জনজীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে।
স্থানীয় নারীরা জানান, লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে চুল পড়ে যাওয়া, কাপড়ের রং নষ্ট হওয়া এবং থালাবাসনে লালচে দাগ পড়ার মতো নিত্যদিনের সমস্যা লেগেই থাকে। এমনকি এই পানির ক্ষতিকর প্রভাবে ঘরের দেয়ালের প্লাস্টার পর্যন্ত খসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এছাড়া দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে ত্বকের ক্ষতি, চুলকানি ও ছত্রাক সংক্রমণের মতো স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিচ্ছে। দাঁতে দাগ পড়া এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশুদ্ধ পানির কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় এলাকার নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং কিশোরী ও নারীরা মাসিকের সময়ও বাধ্য হয়ে এই লবণাক্ত পানি ব্যবহার করছেন। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইসরাত জাহান জানান, লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে ও পানে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাগেরহাট অঞ্চলে দিন দিন লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার মানুষের এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা এবং সুপেয় পানির টেকসই উৎস নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।






































