ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

কী মধু ভিসি পদে, সবাই কেন ইঁদুর দৌড়ে?

মতামত ডেস্ক: প্রশাসনের সহায়তায় দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয়। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কার্যালয়ে দীর্ঘদিন আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ছাড়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিককালে চুয়েট এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ইতিবাচক সংস্কার সাধিত হয়নি। বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই পুরনো দলীয়করণের ধারাই অব্যাহত রয়েছে। চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলমকে প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে শিক্ষক ও কর্মচারীরাও তাতে অংশ নেন। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে পদত্যাগপত্রে সই করানোর মতো অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটে।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় অনুগত শিক্ষকদেরই শীর্ষ পদে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করা হলেও তাদের অনেকেই সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের চেয়ে অবকাঠামোগত কেনাকাটা এবং নানা অনিয়মেই তাদের প্রধান মনোযোগ থাকে।

প্রশ্ন উঠেছে যে, দলনিরপেক্ষ এবং অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো শিক্ষকের পক্ষে কি ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি আনুগত্য ছাড়া কখনো দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া সম্ভব? প্রশাসনিক পদ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই শীর্ষ পদগুলো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিয়োগ পাওয়ার পর অনেকেই নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং প্রকৃত শিক্ষকসুলভ চরিত্র থেকে দূরে সরে যান। ফলস্বরূপ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরেও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসনের ঘাটতি এবং দলীয়করণের সংস্কৃতি অপসৃত হয়নি।

জনপ্রিয়

দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

কী মধু ভিসি পদে, সবাই কেন ইঁদুর দৌড়ে?

প্রকাশিত ০১:৫২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: প্রশাসনের সহায়তায় দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয়। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কার্যালয়ে দীর্ঘদিন আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ছাড়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিককালে চুয়েট এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ইতিবাচক সংস্কার সাধিত হয়নি। বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই পুরনো দলীয়করণের ধারাই অব্যাহত রয়েছে। চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলমকে প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে শিক্ষক ও কর্মচারীরাও তাতে অংশ নেন। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে পদত্যাগপত্রে সই করানোর মতো অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটে।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় অনুগত শিক্ষকদেরই শীর্ষ পদে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করা হলেও তাদের অনেকেই সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের চেয়ে অবকাঠামোগত কেনাকাটা এবং নানা অনিয়মেই তাদের প্রধান মনোযোগ থাকে।

প্রশ্ন উঠেছে যে, দলনিরপেক্ষ এবং অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো শিক্ষকের পক্ষে কি ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি আনুগত্য ছাড়া কখনো দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়া সম্ভব? প্রশাসনিক পদ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই শীর্ষ পদগুলো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিয়োগ পাওয়ার পর অনেকেই নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং প্রকৃত শিক্ষকসুলভ চরিত্র থেকে দূরে সরে যান। ফলস্বরূপ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরেও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসনের ঘাটতি এবং দলীয়করণের সংস্কৃতি অপসৃত হয়নি।