বিনোদন ডেস্ক: ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ায় অভিবাসন আইনের আওতায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তিনি ভারতে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ বা ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে বসবাস করছেন। পুলিশের দেওয়া এই নোটিসে অভিবাসন ও বৈদেশিক আইন যথাযথভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর ৭ নম্বর ধারার অধীনে ওই নোটিস জারি করে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই আইনের আওতায় বিদেশি নাগরিকদের চলাফেরা ও উপস্থিতির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইমরান খানসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। আটকের সময় ভ্যানের ভেতর থেকে একটি সেলফি পোস্ট করে অভিনেতা রসিকতা করলেও পরবর্তীতে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন যে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি সেখানে যাননি। একজন সাধারণ নগরবাসী হিসেবে মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা ও কণ্ঠরোধের বিষয়টি দেখার জন্যই তিনি ওই স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে জানান।
বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভারতের বিদ্যমান অভিবাসন আইন ও ভিসার শর্তগুলো কঠোরভাবে পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওসিআই কার্ডধারীরা বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই ঘটনাটি বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়ানোর আইনগত সীমানা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।





































