ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জনসাধারণের যোগদানের সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ, মন্ত্রিসভার সায় Logo ইরাকে মিলল ৭৫ হাজার বছর আগের কঙ্কাল: হিংস্রতা-যত্নের অনন্য নজির Logo অধিকার রক্ষায় সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার দিল বিএনডব্লিউএলএ Logo নতুন নাম পাচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত Logo সচিবালয় সরানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন Logo আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ Logo লালমনিরহাটে একই আঙিনায় আজান ও উলুধ্বনি, শতবর্ষের সম্প্রীতির বন্ধন Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানি বিনিয়োগকারীদের Logo দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙনে নিঃস্ব বহু পরিবার, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় আজান ও উলুধ্বনি, শতবর্ষের সম্প্রীতির বন্ধন

সারাদেশ ডেস্ক: লালমনিরহাট পৌর শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদের একই উঠানে আজান ও উলুধ্বনির মাধ্যমে শতবর্ষ ধরে বজায় রয়েছে অনন্য সম্প্রীতি। প্রতিদিন আসরের আজানের সময় ঘড়ির কাঁটা মিলতেই মন্দিরের ঢাক, কাঁসর ও মাইকের শব্দ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান শেষ হওয়া এবং মসজিদে নামাজ ও মোনাজাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের লোকজন সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখেন। নামাজ শেষ হলেই পুনরায় স্বকীয় ছন্দে ফিরে আসে পূজামণ্ডপের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়ী মন্দিরের এক কোণে ১৯২৫ সালে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে নির্মিত হয় পুরান বাজার জামে মসজিদটি। সময়ের বিবর্তনে এই প্রাঙ্গণটি কেবল দুটি উপাসনালয়ের যৌথ ঠিকানাই হয়ে থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক মানবিক বোধ ও শ্রদ্ধার এক দারুণ দৃষ্টান্ত। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আজান থেকে শুরু করে প্রথম জামায়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের সব ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বন্ধ রাখা হয়।

কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, উৎসবের আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সময়সূচি নির্ধারণ করে নেয় এবং সেই অনুযায়ী আরতি বা মাইকের সময় সাজানো হয়। পুরান বাজার জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন উল্লেখ করেন, এই চর্চা কেবল বাহ্যিক নয় বরং অন্তরের শ্রদ্ধা থেকে উৎসারিত এবং উভয় পক্ষই একে অপরের উৎসবের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে।

এই অনন্য মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এবং অতীতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এটি প্রত্যক্ষ করেছেন। স্থানীয় তরুণরাও উভয় ধর্মের উৎসবে মিলেমিশে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে থাকেন। জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের মতে, একই উঠানে ঘড়ি মেপে আজান ও আরতির এই আদান-প্রদান বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির এক অনন্য বার্তা পাঠায়।

জনপ্রিয়

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জনসাধারণের যোগদানের সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ, মন্ত্রিসভার সায়

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় আজান ও উলুধ্বনি, শতবর্ষের সম্প্রীতির বন্ধন

প্রকাশিত ০৮:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: লালমনিরহাট পৌর শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদের একই উঠানে আজান ও উলুধ্বনির মাধ্যমে শতবর্ষ ধরে বজায় রয়েছে অনন্য সম্প্রীতি। প্রতিদিন আসরের আজানের সময় ঘড়ির কাঁটা মিলতেই মন্দিরের ঢাক, কাঁসর ও মাইকের শব্দ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান শেষ হওয়া এবং মসজিদে নামাজ ও মোনাজাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের লোকজন সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখেন। নামাজ শেষ হলেই পুনরায় স্বকীয় ছন্দে ফিরে আসে পূজামণ্ডপের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়ী মন্দিরের এক কোণে ১৯২৫ সালে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে নির্মিত হয় পুরান বাজার জামে মসজিদটি। সময়ের বিবর্তনে এই প্রাঙ্গণটি কেবল দুটি উপাসনালয়ের যৌথ ঠিকানাই হয়ে থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক মানবিক বোধ ও শ্রদ্ধার এক দারুণ দৃষ্টান্ত। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আজান থেকে শুরু করে প্রথম জামায়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের সব ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বন্ধ রাখা হয়।

কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, উৎসবের আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সময়সূচি নির্ধারণ করে নেয় এবং সেই অনুযায়ী আরতি বা মাইকের সময় সাজানো হয়। পুরান বাজার জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন উল্লেখ করেন, এই চর্চা কেবল বাহ্যিক নয় বরং অন্তরের শ্রদ্ধা থেকে উৎসারিত এবং উভয় পক্ষই একে অপরের উৎসবের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে।

এই অনন্য মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এবং অতীতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এটি প্রত্যক্ষ করেছেন। স্থানীয় তরুণরাও উভয় ধর্মের উৎসবে মিলেমিশে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে থাকেন। জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের মতে, একই উঠানে ঘড়ি মেপে আজান ও আরতির এই আদান-প্রদান বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির এক অনন্য বার্তা পাঠায়।