ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইশরাককে পদত্যাগ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিমি. পাড়ি, পরে জানলেন তিনি এআই দিয়ে তৈরি Logo সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জনসাধারণের যোগদানের সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ, মন্ত্রিসভার সায় Logo ইরাকে মিলল ৭৫ হাজার বছর আগের কঙ্কাল: হিংস্রতা-যত্নের অনন্য নজির Logo অধিকার রক্ষায় সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার দিল বিএনডব্লিউএলএ Logo নতুন নাম পাচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত Logo সচিবালয় সরানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন Logo আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ Logo লালমনিরহাটে একই আঙিনায় আজান ও উলুধ্বনি, শতবর্ষের সম্প্রীতির বন্ধন

ইরাকে মিলল ৭৫ হাজার বছর আগের কঙ্কাল: হিংস্রতা-যত্নের অনন্য নজির

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের বিখ্যাত শানিদার গুহা থেকে প্রায় ৭৫ হাজার বছর আগের বেশ কয়েকটি নিয়ান্ডারথাল কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব প্রাচীন মানব অবশিষ্টাংশ থেকে তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রাচীন মানবের জীবনধারায় সহিংসতা এবং পারস্পরিক যত্নের অনন্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলোর মধ্যে ‘শানিদার এ’ এবং ‘শানিদার জেড’ নামের দুটি প্রাচীন মানব কঙ্কাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘শানিদার এ’ নামের নিয়ান্ডারথাল মানবটি মৃত্যুর আগে কাঠের বল্লমের আঘাতে গুরুতর জখমের শিকার হয়েছিলেন যা প্রাচীন কোনো মানবের হাতে অন্য মানবকে হত্যার প্রাচীনতম নজির। তার হাড়ের ক্ষত এবং মুখের পুরোনো আঘাতের ধরন দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে মারাত্মক বিপদে পড়েছিলেন। তবে গুরুতর জখম থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন এবং তার দলের সঙ্গীরা তার নিয়মিত দেখাশোনা ও সেবা-যত্ন করেছিলেন। বর্তমান মানবসমাজে পারস্পরিক যত্ন ও সহিংসতার যে রূপ দেখা যায়, হাজার বছর আগেও নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে ঠিক একই আচরণের অস্তিত্ব ছিল।

মৃত্যুর পরও এই নিয়ান্ডারথালদের প্রতি তাদের সঙ্গীদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ‘শানিদার এ’-এর মৃতদেহটি গুহার ভেতরে একটি বড় পাথরের পেছনে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রিয়জনদের মরদেহ একই স্থানে বারবার ফিরিয়ে এনে দাফন করার এই প্রবণতা থেকে স্থানটির প্রতি তাদের গভীর আবেগ ও অনুভূতির পরিচয় মেলে। এছাড়া, ১৯৫০-এর দশকে প্রথম এই গুহা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক রালফ সোলেকির দল ১০ জন নিয়ান্ডারথালের কঙ্কাল উদ্ধার করেছিল, যা তৎকালীন সময়েও গবেষকদের নজর কেড়েছিল।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এমা পোমেরয় উল্লেখ করেছেন যে, এই কঙ্কালগুলো মানব আচরণের ভালো ও মন্দ উভয় দিক অর্থাৎ যত্ন এবং সহিংসতার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে। প্রাচীন এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে বিবর্তনের ধারায় মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সহিংসতার শিকড় ইতিহাসে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। গ্রায়েম বার্কারের পরিচালনায় পরিচালিত এই গবেষণা প্রাচীন মানব ইতিহাসের নানা অজানা অধ্যায় এবং রোমাঞ্চকে নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয়

ইশরাককে পদত্যাগ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ইরাকে মিলল ৭৫ হাজার বছর আগের কঙ্কাল: হিংস্রতা-যত্নের অনন্য নজির

প্রকাশিত ১০:০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের বিখ্যাত শানিদার গুহা থেকে প্রায় ৭৫ হাজার বছর আগের বেশ কয়েকটি নিয়ান্ডারথাল কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব প্রাচীন মানব অবশিষ্টাংশ থেকে তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় প্রাচীন মানবের জীবনধারায় সহিংসতা এবং পারস্পরিক যত্নের অনন্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলোর মধ্যে ‘শানিদার এ’ এবং ‘শানিদার জেড’ নামের দুটি প্রাচীন মানব কঙ্কাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘শানিদার এ’ নামের নিয়ান্ডারথাল মানবটি মৃত্যুর আগে কাঠের বল্লমের আঘাতে গুরুতর জখমের শিকার হয়েছিলেন যা প্রাচীন কোনো মানবের হাতে অন্য মানবকে হত্যার প্রাচীনতম নজির। তার হাড়ের ক্ষত এবং মুখের পুরোনো আঘাতের ধরন দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে মারাত্মক বিপদে পড়েছিলেন। তবে গুরুতর জখম থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন এবং তার দলের সঙ্গীরা তার নিয়মিত দেখাশোনা ও সেবা-যত্ন করেছিলেন। বর্তমান মানবসমাজে পারস্পরিক যত্ন ও সহিংসতার যে রূপ দেখা যায়, হাজার বছর আগেও নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে ঠিক একই আচরণের অস্তিত্ব ছিল।

মৃত্যুর পরও এই নিয়ান্ডারথালদের প্রতি তাদের সঙ্গীদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ‘শানিদার এ’-এর মৃতদেহটি গুহার ভেতরে একটি বড় পাথরের পেছনে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রিয়জনদের মরদেহ একই স্থানে বারবার ফিরিয়ে এনে দাফন করার এই প্রবণতা থেকে স্থানটির প্রতি তাদের গভীর আবেগ ও অনুভূতির পরিচয় মেলে। এছাড়া, ১৯৫০-এর দশকে প্রথম এই গুহা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক রালফ সোলেকির দল ১০ জন নিয়ান্ডারথালের কঙ্কাল উদ্ধার করেছিল, যা তৎকালীন সময়েও গবেষকদের নজর কেড়েছিল।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এমা পোমেরয় উল্লেখ করেছেন যে, এই কঙ্কালগুলো মানব আচরণের ভালো ও মন্দ উভয় দিক অর্থাৎ যত্ন এবং সহিংসতার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে। প্রাচীন এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে বিবর্তনের ধারায় মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সহিংসতার শিকড় ইতিহাসে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। গ্রায়েম বার্কারের পরিচালনায় পরিচালিত এই গবেষণা প্রাচীন মানব ইতিহাসের নানা অজানা অধ্যায় এবং রোমাঞ্চকে নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে এসেছে।