সারাদেশ ডেস্ক: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম ও দশানী নদীর তীব্র ভাঙনে বহু মানুষের আবাদি জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে হাজারো পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং অনেকের পরিবারে নিয়মিত দুবেলা খাবার জোটে না। জীবিকার সন্ধানে এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের একটি বড় অংশ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমাচ্ছেন। এছাড়া নদীভাঙনকবলিত এলাকার শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে বাল্যবিবাহের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার ২৬ হাজার ৬১৮ হেক্টর মোট জমির মধ্যে কৃষিজমি রয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৪ হেক্টর এবং সত্তর দশকের পর থেকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়। ডাংধরা ও চরআমখাওয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়ি, চিথুলিয়া, মোল্লারচরসহ বিভিন্ন গ্রাম এবং হাতিভাঙ্গা ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চরহাতিভাঙ্গা, পোল্যাকান্দি, গুমেরচরসহ বহু জনপদ নদীতে তলিয়ে গেছে। এমনকি ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাটটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে ধুধু বালুচরে পরিণত হওয়া এলাকায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ ও সোনামিয়া জানান, যুগ যুগ ধরে ভাঙন চললেও নদীভাঙন রোধে কখনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং অনেকের বসতভিটা ও কৃষিজমি একাধিকবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চরপোল্যাকান্দি গ্রামের আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা ভালো লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকাজানি ইউনিয়নের চরডাকাতিয়াপাড়ার সাজু মিয়া নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন জানান, নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে এবং তা রোধে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে এবং একনেকে অনুমোদন পেলেই নদীভাঙন রোধের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে। নদীপারের এই জনপদের স্থায়ী অস্তিত্ব রক্ষা এবং মানুষের দুর্দশা লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।



































