জাতীয় ডেস্ক: শারদীয়া দুর্গাপূজার মহাসপ্তামী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন ও রমনা কালী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিন দুপুরে তিনি পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
হাটখোলার রামকৃষ্ণ মিশন পূজা মণ্ডপের মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি দেশের সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি জানান, দেশের সংবিধানে প্রতিটি ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। নাগরিকদের যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনো ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন একদিনে গড়ে ওঠেনি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া এই আত্মিক সম্পর্ক যেকোনো মূল্যে অটুট রাখার ওপর তিনি জোর দেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতে কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থ বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে এই সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রমনা কালী মন্দিরের মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও হানাহানির মধ্যেও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশন ও রমনা কালী মন্দিরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। পরিদর্শনের সময় মন্দির কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সম্মাননা জানান এবং সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

































