আইন-আদালত ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ দমনে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই মন্তব্য করেন। অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে বিতর্কিত কাঠামোয় সাইবার সুরক্ষা আইন পাস করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আইন সরকারের জন্যও শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী বা বুমেরাং হতে পারে।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্য বেশি প্রচার করে বলে বৈঠকে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আলোচনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সেন্সর করা হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার এই অশুভ যোগসাজশের ফলে সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে আলোচকরা অভিমত প্রকাশ করেন।
দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে অতীতে রামুর বৌদ্ধপল্লী হামলা ও মব জাস্টিসের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি প্রস্তাবিত আইনের ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়া এবং মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য না করে দেওয়ানি আইনের অধীনে নেওয়ার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি, ভুল তথ্যের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার ব্যবস্থা রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে এটি কেবল ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার সন্দেহের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি জব্দ করার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক শরীফুজ্জামান পিন্টু জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এতে নির্বাহী বিভাগকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক নয়।
সমাপনী বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাবিত আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো দ্রুত বাতিল করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে এটি সংশোধনের জোর দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর কঠোর আইন চাপিয়ে দেওয়াকে কোনো টেকসই সমাধান বলে মনে করেন না তিনি।



































