গণমাধ্যম ডেস্ক: সাংবাদিকতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথম সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কাছ থেকে শেখা কিছু কথা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের পেশাজীবনে তার বলা বিভিন্ন নির্দেশনা ও অভিজ্ঞতা একজন সংবাদকর্মীর দক্ষতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের প্রতি নিখুঁত মনোযোগ এবং সংবাদ পরিবেশনের নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে তার কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান পেশাগত জীবনের ভিত্তিকে শক্ত করেছে। পেশাদারিত্বের নানা পর্যায়ে তার রেখে যাওয়া নির্দেশনাসমূহ সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
কাজের শুরুর দিনগুলোতে ধানমন্ডি কার্যালয়ে মোবাইল নিউজ সার্ভিসের স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করার সময় খুঁটিনাটির প্রতি সম্পাদকের কঠোর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দিনেই একটি শব্দের সঠিক উচ্চারণ ও বানান যাচাইয়ের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে কাজে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া চলে না। তখন থেকেই সংবাদ পরিবেশনে ভুলের দায় এড়ানো এবং শ্রোতার কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী। সম্পাদকের এই কঠোর অবস্থান কাজের মান বজায় রাখতে এবং প্রতিটি ধقপে সতর্ক থাকতে সবসময় উৎসাহিত করত।
ওয়ান-ইলেভেনের উত্তাল সময়ে কারফিউ জারির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মেস থেকে তুলে নেওয়ার একটি স্পর্শকাতর খবর প্রকাশের ক্ষেত্রেও সম্পাদকের দৃঢ়তা দেখা গিয়েছিল। নানা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মাঝেও সঠিক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে খবরটি প্রকাশের সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন তিনি। ভয়ের কারণে সাংবাদিকতার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে না—এই শিক্ষাটি সেই সংকটময় মুহূর্তে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহস যুগিয়েছিল। পরবর্তীতে আর্থিক খাতের একটি সংবাদ নিয়ে প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখেও তিনি রিপোর্টারের যাচাই করা তথ্যের পক্ষেই অনড় অবস্থান নিয়েছিলেন।
ক্ষমতাশালীদের ফোনকল উপেক্ষা করে রিপোর্টারের বক্তব্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে সম্পাদকের কাছে খবরের সত্যতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। ক্ষমতার প্রভাব বা নিজস্ব অনুমানের চেয়ে প্রতিবেদকের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানকে তিনি সবসময় বেশি মূল্যায়ন করতেন। ‘সবার আগে, কিন্তু নির্ভুল’ নীতিতে বিশ্বাসী এই সম্পাদক কখনোই দায়সারাভাবে ‘সূত্র জানিয়েছে’ লিখে খবর প্রচারের পক্ষপাতী ছিলেন না। বরং যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ না করা এবং নিজের ধারণার চেয়ে মাঠের রিপোর্টারের তথ্যের সত্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া ছিল তার অনন্য বৈশিষ্ট্য।
একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সম্পাদক হিসেবে তার আপসহীন মনোভাব ও একরোখা স্বভাবের পেছনে সবসময় পেশাগত সততা কাজ করত। পরবর্তীতে মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক স্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে সত্য খবর প্রকাশের ক্ষেত্রেও তার সেই আপসহীন নীতি বজায় ছিল। এসব অভিজ্ঞতা থেকে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে যাচাই ছাড়া খবর প্রকাশ না করা, সম্পাদকের নিজের ধারণাকে তথ্যের নিচে রাখা এবং রিপোর্টারের পক্ষে দাঁড়ানোর গুরুত্ব শেখা সম্ভব হয়েছে। এই শিক্ষাগুলোই মূলত একজন সফল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক গড়ে ওঠার পথকে মসৃণ করেছে।







































