ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সেন্ট মার্টিনে সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা Logo ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন : নিলোফার চৌধুরী Logo সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন : স্পিকার Logo অস্ট্রেলিয়াকে ৯৯ রানে গুটিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা Logo বিইউবিটিতে আলোক হেলথকেয়ারের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা Logo বাপ্পারাজকে নিয়ে ওমর সানীর স্মৃতিচারণ: ‘দিনশেষে আপনি অনেক দুষ্টু’ Logo বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ প্রশাসনের Logo সাইবেরিয়ার গুহায় মিলল বরফ যুগের নতুন প্রাণীর জীবাশ্ম Logo পূজামণ্ডপে মুসলিমদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: খাদ্যমন্ত্রী Logo শাহজালালে সহযাত্রীর লাগেজ চুরি, গ্রেপ্তার ১

সাইবেরিয়ার গুহায় মিলল বরফ যুগের নতুন প্রাণীর জীবাশ্ম

প্রযুক্তি ডেস্ক: রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার ডেনিসোভা গুহা থেকে বরফ যুগের সম্পূর্ণ অজানা একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। প্রাক-মানব প্রজাতি ডেনিসোভানদের হাড় পাওয়ার জন্য পরিচিত এই গুহায় পাওয়া ছোট ছোট হাড়ের টুকরো বিশ্লেষণ করে নতুন এই প্রাণীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে প্রাণীটি বর্তমান সময়ের চমরী গাই বা ইয়াকের নিকটাত্মীয় হলেও গরু জাতীয় অন্যান্য প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

সুইডেনের সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিক্সসহ আন্তর্জাতিক গবেষক দল ডেনিসোভা গুহা ও সংলগ্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত মোট ২০টি হাড়ের টুকরো পরীক্ষা করেন। জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নমুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনটি প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ বছর পুরনো এবং সবচেয়ে সাম্প্রতিক নমুনাটির বয়স প্রায় ২৭ হাজার বছর। প্রাপ্ত হাড়গুলো অত্যন্ত ছোট ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র শারীরিক গঠন দেখে এটি আলাদা কোনো প্রজাতি কি না, তা বোঝা সম্ভব ছিল না। প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষকরা চার লাখ বছর আগে আধুনিক ইয়াকের পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া এই স্বতন্ত্র প্রজাতিটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

জেনেটিক প্রমাণ থাকলেও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিএনএর ভিত্তিতে নতুন কোনো প্রাণীকে আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া যায় না, তাই গবেষকরা সাময়িকভাবে এটিকে ‘ইয়াক এক্স’ নামে অভিহিত করছেন। গবেষকদের মতে, বরফ যুগে এই প্রাণীটি স্টেপ বাইসন, পশমি ম্যামথ, পশমি গন্ডার এবং গুহা হায়েনার মতো বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সঙ্গে একই পরিবেশে বসবাস করত। আজকের ইয়াকের সঙ্গে শারীরিক মিল থাকার কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে এই প্রাণীটিরও ঘাড়ে বড় কুঁজ, বাঁকানো শিং এবং ঘন লম্বা লোম ছিল। প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বছর আগের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রজাতিটির সংখ্যায় বড় ধরনের পতন ঘটেছিল বলে গবেষকরা অনুমান করছেন।

ইতিহাসখ্যাত ডেনিসোভা গুহায় অতীতে প্রাক-মানব প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও নতুন এই আবিষ্কার বরফ যুগের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। গবেষকদের ধারণা, দক্ষ শিকারী ডেনিসোভানদের খাবার তালিকার একটি অংশ ছিল এই ‘ইয়াক এক্স’ প্রাণীটি। দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার পর প্রায় ২৭ হাজার বছর আগের সংগৃহীত সর্বকনিষ্ঠ নমুনাটির কিছুকাল পরেই এই প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ধরনের প্রাচীন ও অশনাক্তযোগ্য হাড় থেকে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারকে জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

জনপ্রিয়

সেন্ট মার্টিনে সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

সাইবেরিয়ার গুহায় মিলল বরফ যুগের নতুন প্রাণীর জীবাশ্ম

প্রকাশিত ০৯:২২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার ডেনিসোভা গুহা থেকে বরফ যুগের সম্পূর্ণ অজানা একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। প্রাক-মানব প্রজাতি ডেনিসোভানদের হাড় পাওয়ার জন্য পরিচিত এই গুহায় পাওয়া ছোট ছোট হাড়ের টুকরো বিশ্লেষণ করে নতুন এই প্রাণীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে প্রাণীটি বর্তমান সময়ের চমরী গাই বা ইয়াকের নিকটাত্মীয় হলেও গরু জাতীয় অন্যান্য প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

সুইডেনের সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিক্সসহ আন্তর্জাতিক গবেষক দল ডেনিসোভা গুহা ও সংলগ্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত মোট ২০টি হাড়ের টুকরো পরীক্ষা করেন। জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নমুনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনটি প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ বছর পুরনো এবং সবচেয়ে সাম্প্রতিক নমুনাটির বয়স প্রায় ২৭ হাজার বছর। প্রাপ্ত হাড়গুলো অত্যন্ত ছোট ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র শারীরিক গঠন দেখে এটি আলাদা কোনো প্রজাতি কি না, তা বোঝা সম্ভব ছিল না। প্রাচীন ডিএনএ গবেষণার আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষকরা চার লাখ বছর আগে আধুনিক ইয়াকের পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া এই স্বতন্ত্র প্রজাতিটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

জেনেটিক প্রমাণ থাকলেও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিএনএর ভিত্তিতে নতুন কোনো প্রাণীকে আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া যায় না, তাই গবেষকরা সাময়িকভাবে এটিকে ‘ইয়াক এক্স’ নামে অভিহিত করছেন। গবেষকদের মতে, বরফ যুগে এই প্রাণীটি স্টেপ বাইসন, পশমি ম্যামথ, পশমি গন্ডার এবং গুহা হায়েনার মতো বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সঙ্গে একই পরিবেশে বসবাস করত। আজকের ইয়াকের সঙ্গে শারীরিক মিল থাকার কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে এই প্রাণীটিরও ঘাড়ে বড় কুঁজ, বাঁকানো শিং এবং ঘন লম্বা লোম ছিল। প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বছর আগের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রজাতিটির সংখ্যায় বড় ধরনের পতন ঘটেছিল বলে গবেষকরা অনুমান করছেন।

ইতিহাসখ্যাত ডেনিসোভা গুহায় অতীতে প্রাক-মানব প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও নতুন এই আবিষ্কার বরফ যুগের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। গবেষকদের ধারণা, দক্ষ শিকারী ডেনিসোভানদের খাবার তালিকার একটি অংশ ছিল এই ‘ইয়াক এক্স’ প্রাণীটি। দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার পর প্রায় ২৭ হাজার বছর আগের সংগৃহীত সর্বকনিষ্ঠ নমুনাটির কিছুকাল পরেই এই প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ধরনের প্রাচীন ও অশনাক্তযোগ্য হাড় থেকে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারকে জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।