জাতীয় ডেস্ক: দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ সমাজকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে এবং বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে অনুষ্ঠিত এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হিন্দু ও সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়। এই ধরনের সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, কোনো অপশক্তিকে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান যে, সকল ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই উৎসবের মূল বার্তা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য কিংবা নিপীড়নের শিকার হবেন তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।






































