ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিকিউরিটি ক্যামেরায় কেন লেজার তাক করা উচিত নয়?

প্রযুক্তি ডেস্ক: চলচ্চিত্র বা অপরাধবিষয়ক টিভি সিরিজে সিকিউরিটি ক্যামেরা অকেজো করতে লেজার পয়েন্টারের ব্যবহার দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তা বেশ কঠিন। জনপ্রিয় আমেরিকান টিভি সিরিজ ‘বেটার কল সল’-এ এমন একটি কৌশল দেখানো হয়েছিল, যা নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহল রয়েছে। মূলত শক্তিশালী লেজার, পুরনো প্রযুক্তির ক্যামেরা এবং একদম স্থির হাত—এই তিনটির সমন্বয়ে ক্যামেরাকে সাময়িকভাবে অন্ধ করা সম্ভব। তবে এটি শুধু কঠিনই নয়, বরং বিশ্বের বেশিরভাগ স্থানেই একটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রযুক্তির ভাষায় সিকিউরিটি ক্যামেরা মানুষের চোখের চেয়ে তীব্র আলোর প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ব্যবহৃত সিএমওএস বা সিসিডি সেন্সরের দিকে লেজার তাক করলে তা অতিরিক্ত আলোতে ঢাকা পড়ে যায়। এর ফলে ক্যামেরার ফুটেজে সাময়িক ঝলকানি বা পুরো সাদা হয়ে যাওয়ার মতো প্রভাব তৈরি হয়। এমনকি উচ্চ সক্ষমতার লেজারের তাপ দীর্ঘ সময় ধরে ক্যামেরায় লাগলে সেন্সরে স্থায়ী ক্ষতি বা ডেড পিক্সেল হতে পারে।

তবে সব ধরনের লেজার দিয়ে ক্যামেরার ক্ষতি করা যায় না এবং এর জন্য অন্তত ৫ মিলিওয়াটের বেশি ক্ষমতার লেজার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ-র নিয়ম অনুযায়ী ৫ মিলিওয়াটের বেশি ক্ষমতার লেজার বিক্রি বা প্রচার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাছাড়া নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে হাত একদম স্থির রেখে ক্যামেরার ছোট লেন্সে দীর্ঘ সময় লক্ষ্য ধরে রাখা অত্যন্ত দুঃসাধ্য একটি কাজ। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক সেন্সর সুরক্ষা এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে বর্তমানের ক্যামেরাগুলোতে লেজারের ক্ষতিসাধন করা আরও বেশি কঠিন।

হোম সিকিউরিটি ক্যামেরাকে শতভাগ লেজার-প্রুফ করা সম্ভব না হলেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। ক্যামেরাকে সবসময় উঁচুতে বা নির্দিষ্ট কোণে স্থাপন করলে তাতে লেজার তাক করে রাখা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এছাড়া মুভিং ক্যামেরা ব্যবহার এবং একাধিক ক্যামেরার সাহায্যে অন্ধ এলাকা বা ব্লাইন্ড স্পট দূর করা যেতে পারে। অনেক আধুনিক ক্যামেরায় অস্বাভাবিক আলো বা তৎপরতা শনাক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রযুক্তিও যুক্ত করা সম্ভব।

জনপ্রিয়

বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনেই দুই মোটরসাইকেল চুরি, বিকাশে টাকা দাবি

সিকিউরিটি ক্যামেরায় কেন লেজার তাক করা উচিত নয়?

প্রকাশিত ০৪:২২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: চলচ্চিত্র বা অপরাধবিষয়ক টিভি সিরিজে সিকিউরিটি ক্যামেরা অকেজো করতে লেজার পয়েন্টারের ব্যবহার দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তা বেশ কঠিন। জনপ্রিয় আমেরিকান টিভি সিরিজ ‘বেটার কল সল’-এ এমন একটি কৌশল দেখানো হয়েছিল, যা নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহল রয়েছে। মূলত শক্তিশালী লেজার, পুরনো প্রযুক্তির ক্যামেরা এবং একদম স্থির হাত—এই তিনটির সমন্বয়ে ক্যামেরাকে সাময়িকভাবে অন্ধ করা সম্ভব। তবে এটি শুধু কঠিনই নয়, বরং বিশ্বের বেশিরভাগ স্থানেই একটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রযুক্তির ভাষায় সিকিউরিটি ক্যামেরা মানুষের চোখের চেয়ে তীব্র আলোর প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ব্যবহৃত সিএমওএস বা সিসিডি সেন্সরের দিকে লেজার তাক করলে তা অতিরিক্ত আলোতে ঢাকা পড়ে যায়। এর ফলে ক্যামেরার ফুটেজে সাময়িক ঝলকানি বা পুরো সাদা হয়ে যাওয়ার মতো প্রভাব তৈরি হয়। এমনকি উচ্চ সক্ষমতার লেজারের তাপ দীর্ঘ সময় ধরে ক্যামেরায় লাগলে সেন্সরে স্থায়ী ক্ষতি বা ডেড পিক্সেল হতে পারে।

তবে সব ধরনের লেজার দিয়ে ক্যামেরার ক্ষতি করা যায় না এবং এর জন্য অন্তত ৫ মিলিওয়াটের বেশি ক্ষমতার লেজার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ-র নিয়ম অনুযায়ী ৫ মিলিওয়াটের বেশি ক্ষমতার লেজার বিক্রি বা প্রচার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাছাড়া নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে হাত একদম স্থির রেখে ক্যামেরার ছোট লেন্সে দীর্ঘ সময় লক্ষ্য ধরে রাখা অত্যন্ত দুঃসাধ্য একটি কাজ। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক সেন্সর সুরক্ষা এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে বর্তমানের ক্যামেরাগুলোতে লেজারের ক্ষতিসাধন করা আরও বেশি কঠিন।

হোম সিকিউরিটি ক্যামেরাকে শতভাগ লেজার-প্রুফ করা সম্ভব না হলেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। ক্যামেরাকে সবসময় উঁচুতে বা নির্দিষ্ট কোণে স্থাপন করলে তাতে লেজার তাক করে রাখা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এছাড়া মুভিং ক্যামেরা ব্যবহার এবং একাধিক ক্যামেরার সাহায্যে অন্ধ এলাকা বা ব্লাইন্ড স্পট দূর করা যেতে পারে। অনেক আধুনিক ক্যামেরায় অস্বাভাবিক আলো বা তৎপরতা শনাক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রযুক্তিও যুক্ত করা সম্ভব।