ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বাস্তুচ্যুত হতে পারে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষি খাতে ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ মানুষ এমন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় প্লাবনঝুঁকি ও এর প্রতিকারের উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের উচ্চ নির্গমন অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ উপকূলীয় প্লাবনের শিকার হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ উপকূলীয় বন্যায় আক্রান্ত হতে পারেন এবং ২১০০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১০ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট সমাজে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার চক্রকে আরও গভীর করে তোলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জলবায়ু ঝুঁকির মাঝেও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এডিবি। আগাম সতর্কবার্তা ও সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার করতে দেশে বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া উপকূলীয় সুরক্ষা ও অভিযোজন খাতে সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এলাকার ভূখণ্ড ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক সমাধান গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলে বন্যার আর্থিক ক্ষতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয়

মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, নিজেই জানালেন ইশরাক

বাস্তুচ্যুত হতে পারে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত ০১:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষি খাতে ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ মানুষ এমন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় প্লাবনঝুঁকি ও এর প্রতিকারের উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের উচ্চ নির্গমন অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ উপকূলীয় প্লাবনের শিকার হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ উপকূলীয় বন্যায় আক্রান্ত হতে পারেন এবং ২১০০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১০ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট সমাজে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার চক্রকে আরও গভীর করে তোলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জলবায়ু ঝুঁকির মাঝেও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এডিবি। আগাম সতর্কবার্তা ও সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার করতে দেশে বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া উপকূলীয় সুরক্ষা ও অভিযোজন খাতে সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এলাকার ভূখণ্ড ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক সমাধান গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলে বন্যার আর্থিক ক্ষতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।