ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপানে কামরুল হাসান লিপুর একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু Logo পিএসজি ম্যাচের জন্য ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত ছিল না’ বার্সেলোনা Logo পাখির ডানায় শীতের বার্তা, অপার সৌন্দর্যে জেগেছে চলনবিল Logo আট মাসেও কাটেনি অস্থিরতা: জনমনে স্বস্তি ফেরানো জরুরি Logo সিলেটের মাঠে সোনালি স্বপ্ন, আমনে ৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা Logo গৃহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো একটি দিন Logo ক্যান্সার রোগীর ছবি দেখে আয়ু বলবে এআই, দাবি গবেষণায় Logo অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সিলেটে, ফাইনাল চট্টগ্রামে Logo খাদ্য ব্যবসা: নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে, বাদ যাবে না পিঠা, পুরির দোকানও Logo লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

সিলেটের মাঠে সোনালি স্বপ্ন, আমনে ৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠে এখন সোনালি ধানের শীষ দুলছে এবং কোথাও কোথাও আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের উঠান মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে গ্রামবাংলার চিরচেনা ধান কাটা ও মাড়াই উৎসবে। চলতি মৌসুমে জেলার ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমি থেকে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে কৃষি বিভাগের। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট জেলার উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে। কৃষকরা এবার ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৫৬, বিনা ধান-৭ ও বিনা ধান-১৭ এর মতো স্বল্পমেয়াদি ও আধুনিক জাতের ধান চাষ করেছেন। এসব জাতের ধান প্রচলিত জাতের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে পরিপক্ব হয়। ফলে কৃষকরা যেমন দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারছেন, তেমনি একই জমিতে শীতকালীন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে জমির আইল পরিষ্কার ও ফসল তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগাম জাতের আমন ধান চাষের ফলে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আশ্বিন-কার্তিক মাসের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এই নতুন ধান বড় ভূমিকা রাখে। গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন জানান, গতবারের মতো এবারও ধানের শীষ পুষ্ট হয়েছে এবং তিনি ধান কাটা শুরু করে দ্রুত তা ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে সরিষা ও আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করা যাবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি এবং উন্নত বীজের ব্যবহার কৃষকদের মাঝে স্বল্পমেয়াদি ধান চাষের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণ কৃষকদের ভালো ফলন পেতে সহায়তা করবে। তবে চূড়ান্ত উৎপাদনের সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হওয়ার পর। মাঠের এই সোনালি আভা সিলেট অঞ্চলের কৃষকদের ঘরে নতুন ফসল তোলার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। আগাম ধান তোলার পর শীতকালীন ফসল আবাদ করতে পারলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উৎপাদনশীলতাও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

জনপ্রিয়

জাপানে কামরুল হাসান লিপুর একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু

সিলেটের মাঠে সোনালি স্বপ্ন, আমনে ৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশিত ০৩:২২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠে এখন সোনালি ধানের শীষ দুলছে এবং কোথাও কোথাও আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের উঠান মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে গ্রামবাংলার চিরচেনা ধান কাটা ও মাড়াই উৎসবে। চলতি মৌসুমে জেলার ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমি থেকে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে কৃষি বিভাগের। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট জেলার উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে। কৃষকরা এবার ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৫৬, বিনা ধান-৭ ও বিনা ধান-১৭ এর মতো স্বল্পমেয়াদি ও আধুনিক জাতের ধান চাষ করেছেন। এসব জাতের ধান প্রচলিত জাতের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে পরিপক্ব হয়। ফলে কৃষকরা যেমন দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারছেন, তেমনি একই জমিতে শীতকালীন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে জমির আইল পরিষ্কার ও ফসল তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আগাম জাতের আমন ধান চাষের ফলে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আশ্বিন-কার্তিক মাসের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এই নতুন ধান বড় ভূমিকা রাখে। গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন জানান, গতবারের মতো এবারও ধানের শীষ পুষ্ট হয়েছে এবং তিনি ধান কাটা শুরু করে দ্রুত তা ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে সরিষা ও আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করা যাবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি এবং উন্নত বীজের ব্যবহার কৃষকদের মাঝে স্বল্পমেয়াদি ধান চাষের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণ কৃষকদের ভালো ফলন পেতে সহায়তা করবে। তবে চূড়ান্ত উৎপাদনের সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হওয়ার পর। মাঠের এই সোনালি আভা সিলেট অঞ্চলের কৃষকদের ঘরে নতুন ফসল তোলার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। আগাম ধান তোলার পর শীতকালীন ফসল আবাদ করতে পারলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উৎপাদনশীলতাও বহুগুণ বেড়ে যাবে।