ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাতের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি খাতের অচলাবস্থার জন্য এই পদত্যাগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নতুন কর্মসূচি হিসেবে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা আসে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এই কর্মসূচি ও দাবির কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক পথে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জানান, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি এবং জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। জ্বালানি খাতের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই খাতেও গত সাত মাসে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারের অবহেলার জন্য দায়ী অন্যান্য মন্ত্রীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অপরাধ ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুন, ডাকাতি ও সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী নির্যাতন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় নাগরিকদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ভিন্নমত দমনের জন্য দমনমূলক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণের শামিল।

জনপ্রিয়

‘পরিবর্তনের জন্য সিআইএর সঙ্গে কাজ করুন’, কিউবার নাগরিকদের বললেন রুবিও

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত ০৮:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাতের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি খাতের অচলাবস্থার জন্য এই পদত্যাগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নতুন কর্মসূচি হিসেবে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা আসে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এই কর্মসূচি ও দাবির কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক পথে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জানান, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি এবং জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। জ্বালানি খাতের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই খাতেও গত সাত মাসে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারের অবহেলার জন্য দায়ী অন্যান্য মন্ত্রীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অপরাধ ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুন, ডাকাতি ও সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী নির্যাতন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় নাগরিকদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, ভিন্নমত দমনের জন্য দমনমূলক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণের শামিল।