ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনার জয়রথ থামাল রেয়াল মাদ্রিদ Logo ‘এমন ইনিংস জীবনে কখনও দেখিনি’, সেঞ্চুরিয়ান শাদাবকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আফ্রিদি Logo পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র বাংলাদেশের Logo বাজারে কোন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে? Logo চলে গেলেন বাংলার বিশ্বমানের চিত্রকর যোগেন চৌধুরী Logo কম্পানিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচ জিতে শীর্ষে ফিরল বায়ার্ন Logo সিকদার গ্রুপের ‘পাচার অর্থ’ উদ্ধারে ‘আগাম টাকা চায়’ রিকভারি এজেন্ট Logo সোনার দাম বাড়ে-কমে কেন, কীভাবে হয় দাম নির্ধারণ Logo চাঁদাবাজির অভিযোগে রায়েরবাজার থেকে বিএনপি নেতা রাজেশ গ্রেপ্তার Logo কাউ-টাউন: যে শহরের মানুষ একদিন ‘গরু’ হয়েছিল

বিদায়, আমার বন্ধু: স্মৃতির পাতায় তৌফিক

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তার এই মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে শোক ও বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধুরা। মৃত্যু মানুষের জীবনের এক অনিবার্য সত্য হলেও কিছু প্রস্থান কাছের মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে। তৌফিকের এই চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যেন জীবনের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।

১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুবাদে তৌফিকের সঙ্গে গভীর পরিচয় হয়েছিল তার সহপাঠীদের। সামরিক শাসন ও সেশনজটের সেই অস্থির সময়ে ঢাকা কলেজ থেকে আসা বন্ধুদের পরিধি দ্রুত প্রসারিত হয়ে তৌফিকও তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হয়। ক্লাসের ফাঁকে মল চত্বর, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং টিএসসির আশপাশে আড্ডা দিয়ে কাটানো দিনগুলোতে তাদের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বন্ধুরা বিশ্বাস করত যে তাদের এই বন্ধুত্ব কখনো ফুরাবে না এবং পুরো জীবন সামনে পড়ে আছে।

প্রাণচঞ্চল ও নির্ভার স্বভাবের কারণে বন্ধুরা তাকে ‘ক্যারা’ নামে ডাকত এবং যেকোনো আড্ডায় ও আয়োজনে তার উপস্থিতি ছিল বাধ্যতামূলক। শুধু আড্ডা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে তার প্রবল উৎসাহ ও মানুষকে রাজি করানোর বিশেষ দক্ষতা ছিল। দ্বিতীয় বর্ষে পিকনিকের অনুমতি আদায় থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে কোনো অন্যায় দেখলে সিনিয়রদের প্রতিবাদ করার মতো সাহসী ভূমিকা পালন করতেন তিনি। ছাত্রাবস্থা থেকেই তার চরিত্রের মধ্যে একজন সাহসী সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

চিন্তাভাবনায় প্রগতিশীল ও মৌলবাদবিরোধী হলেও তৌফিক সবসময় অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তীব্র তর্কবিতর্ক করলেও তিনি কখনো গোঁড়ামি করতেন না এবং ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতেন। পরবর্তীকালে ক্রমবর্ধমান নানা বিভক্তির মাঝেও তার এই স্বাধীন চিন্তার দৃঢ়তা অপরিবর্তিত ছিল। মাস্টার্স শেষ করার পর তৌফিকের উৎসাহেই তাদের কয়েকজন সাংবাদিকতা পেশায় এসেছিলেন।

সময়ের পরিবর্তনে সেই তরুণ বন্ধুরা একে একে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এবং সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন তৌফিক। বার্ধক্যের এই পর্যায়ে এসে স্মৃতিই এখন জীবিত ও চলে যাওয়া মানুষদের মেলবন্ধনের একমাত্র স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৌফিকের মতো একজন প্রগতিশীল ও উদ্যমী মানুষের প্রস্থান তার সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয়

এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনার জয়রথ থামাল রেয়াল মাদ্রিদ

বিদায়, আমার বন্ধু: স্মৃতির পাতায় তৌফিক

প্রকাশিত ০১:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তার এই মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে শোক ও বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধুরা। মৃত্যু মানুষের জীবনের এক অনিবার্য সত্য হলেও কিছু প্রস্থান কাছের মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে। তৌফিকের এই চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যেন জীবনের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।

১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুবাদে তৌফিকের সঙ্গে গভীর পরিচয় হয়েছিল তার সহপাঠীদের। সামরিক শাসন ও সেশনজটের সেই অস্থির সময়ে ঢাকা কলেজ থেকে আসা বন্ধুদের পরিধি দ্রুত প্রসারিত হয়ে তৌফিকও তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হয়। ক্লাসের ফাঁকে মল চত্বর, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং টিএসসির আশপাশে আড্ডা দিয়ে কাটানো দিনগুলোতে তাদের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বন্ধুরা বিশ্বাস করত যে তাদের এই বন্ধুত্ব কখনো ফুরাবে না এবং পুরো জীবন সামনে পড়ে আছে।

প্রাণচঞ্চল ও নির্ভার স্বভাবের কারণে বন্ধুরা তাকে ‘ক্যারা’ নামে ডাকত এবং যেকোনো আড্ডায় ও আয়োজনে তার উপস্থিতি ছিল বাধ্যতামূলক। শুধু আড্ডা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে তার প্রবল উৎসাহ ও মানুষকে রাজি করানোর বিশেষ দক্ষতা ছিল। দ্বিতীয় বর্ষে পিকনিকের অনুমতি আদায় থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে কোনো অন্যায় দেখলে সিনিয়রদের প্রতিবাদ করার মতো সাহসী ভূমিকা পালন করতেন তিনি। ছাত্রাবস্থা থেকেই তার চরিত্রের মধ্যে একজন সাহসী সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

চিন্তাভাবনায় প্রগতিশীল ও মৌলবাদবিরোধী হলেও তৌফিক সবসময় অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তীব্র তর্কবিতর্ক করলেও তিনি কখনো গোঁড়ামি করতেন না এবং ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতেন। পরবর্তীকালে ক্রমবর্ধমান নানা বিভক্তির মাঝেও তার এই স্বাধীন চিন্তার দৃঢ়তা অপরিবর্তিত ছিল। মাস্টার্স শেষ করার পর তৌফিকের উৎসাহেই তাদের কয়েকজন সাংবাদিকতা পেশায় এসেছিলেন।

সময়ের পরিবর্তনে সেই তরুণ বন্ধুরা একে একে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এবং সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন তৌফিক। বার্ধক্যের এই পর্যায়ে এসে স্মৃতিই এখন জীবিত ও চলে যাওয়া মানুষদের মেলবন্ধনের একমাত্র স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৌফিকের মতো একজন প্রগতিশীল ও উদ্যমী মানুষের প্রস্থান তার সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।