মতামত ডেস্ক: রাজধানীর ফুটপাত, পার্ক কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো গৃহহীন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যগত সংকট নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। সাধারণ মানুষের মতো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের সুবিধা না থাকায় এসব মানুষ মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন যা আমাদের নগর-পরিকল্পনার বড় ত্রুটি।
উন্নয়নের বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও শহরের সবচেয়ে অসহায় এই মানুষগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। অথচ উপযুক্ত পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে সরকারের পক্ষে লাখ লাখ গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু নয়। ঢাকা ও এর আশপাশে জমি অধিগ্রহণ করে ছিন্নমূল মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন গড়ে তোলা যেতে পারে।
প্রস্তাবিত এসব আবাসনে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শহরের কর্মজীবী এসব মানুষের জীবিকার কথা বিবেচনা করে আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে হবে। স্বচ্ছ নীতিমালার ভিত্তিতে সঠিক তালিকা তৈরি করে তবেই এই পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়তে হলে কেবল বড় সড়ক বা সেতু নির্মাণ করলেই চলবে না, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের উচিত গৃহহীনদের সমস্যাকে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া। সবার জন্য নিরাপদ জীবন ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি সত্যিকারের উন্নত শহর গড়ে উঠতে পারে।






































