মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি বৃষ্টি ও যানজটের মধ্যে এক সকালে বাসে বসে থাকার সময় চরম কষ্টের এক বাস্তব চিত্র দেখতে পান লেখক। ইপিজেডের সামনে রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ থেকে এক দরিদ্র মানুষের পচা পেয়ারা খুঁজে খাওয়ার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এই ঘটনা লেখকের মনের সব ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তাকে এক নিমিষে ম্লান করে দেয় এবং সমাজে বিদ্যমান চরম বৈষম্যের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।
আমাদের সমাজে প্রতিদিন নানা আয়োজনে এবং দাওয়াতে বিপুল পরিমাণ খাবার অপ্রয়োজনে নষ্ট করা হয় যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক সময় অনুষ্ঠানে গিয়ে টাকা উসুল করার মানসিকতা থেকে অতিরিক্ত খাবার প্লেটে তুলে তা নষ্ট করা হয়। তাছাড়া মা-বাবারাও অনেক সময় সন্তানদের বেশি করে মাংস খাওয়ার তাগিদ দেন, অথচ যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু নেওয়ার শিক্ষা দেন না।
খাবার মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক প্রয়োজন এবং কারও কাছে এটি বিলাসিতা হলেও অন্যের প্লেটে তা নষ্ট হওয়া অত্যন্ত নির্মম দৃশ্য। পেট খালি থাকলে মানুষের কাছে পৃথিবীর অন্য সব চিন্তা তুচ্ছ হয়ে যায় এবং ক্ষুধার কষ্টের চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা নেই। তাই রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণের সময়ও অতিরিক্ত অংশ সঙ্গে নিয়ে আসা উচিত যাতে তা নিজে খাওয়া যায় কিংবা অন্য কোনো প্রাণীকে দেওয়া সম্ভব হয়।
ময়লার স্তূপ থেকে পচা খাবার খাওয়া মানুষটিও এই সৃষ্টিরই অংশ এবং আমাদের সকলেরই জীবনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না যে আগামী দিনে কার ভাগ্য কেমন হবে কিংবা কাকে এমন কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে। তাই খাবারকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।






































