ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি নির্বাচনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, বিএনপি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিভিন্ন কৌশল এঁটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দলের গডফাদাররা ইতোপূর্বে মন্তব্য করেছেন যে বিএনপিকে নির্বাচনে জয়ী করতে তারাই ভূমিকা রেখেছিল। অথচ এখন বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে নানা ধরনের নতুন বয়ান তৈরি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলানোর মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রশাসন ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ টাকা, অস্ত্র এবং মাদক ঢোকা সরকার ঠেকাতে না পারে, তবে তাদের দেশ পরিচালনার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না। সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের কারণে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে অথচ চাঁদাবাজরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। উপযুক্ত দাম না পেয়ে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ফেলে দেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও রাতের আঁধারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের কঠোর আইনের আওতায় না এনে কেবল পদত্যাগের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি নিজেদের দলের লোকেরাও এখন নিজ দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি এবং দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসনে বসানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য। জনগণের অধিকার রক্ষা ও সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নে নানা চাপ সৃষ্টি করা হলেও তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

জনপ্রিয়

হাঁটলে কত ক্যালোরি ঝরে?

বিএনপি নির্বাচনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন

প্রকাশিত ০১:৫২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, বিএনপি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিভিন্ন কৌশল এঁটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দলের গডফাদাররা ইতোপূর্বে মন্তব্য করেছেন যে বিএনপিকে নির্বাচনে জয়ী করতে তারাই ভূমিকা রেখেছিল। অথচ এখন বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে নানা ধরনের নতুন বয়ান তৈরি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলানোর মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রশাসন ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ টাকা, অস্ত্র এবং মাদক ঢোকা সরকার ঠেকাতে না পারে, তবে তাদের দেশ পরিচালনার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না। সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের কারণে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে অথচ চাঁদাবাজরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। উপযুক্ত দাম না পেয়ে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ফেলে দেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও রাতের আঁধারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের কঠোর আইনের আওতায় না এনে কেবল পদত্যাগের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি নিজেদের দলের লোকেরাও এখন নিজ দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি এবং দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসনে বসানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য। জনগণের অধিকার রক্ষা ও সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নে নানা চাপ সৃষ্টি করা হলেও তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।