ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চা পান: স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী সুফলগুলো পেতে যা করতে হবে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: এক কাপ চা কেবল ক্লান্তি দূর করে না, বরং এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও। নিয়মিত চা পানের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে এই পানীয় থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার বিষয়টি মূলত নির্ভর করে এটি প্রস্তুত এবং খাওয়ার পদ্ধতির ওপর। অতিরিক্ত উত্তপ্ত চায়ের চেয়ে মাঝারি গরম চা পান করা শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

সম্প্রতি ‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’ প্রকাশিত এক গবেষণায় চা তৈরির প্রক্রিয়া ও পান করার অভ্যাসের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ডা. লিয়ানা ওয়েন সিএনএনকে জানান, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের হৃদরোগের আশঙ্কা কম চা পানকারীদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম থাকে। বয়স, ওজন, ধূমপান কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো হিসাব করার পরও এই ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা ধূমপান করেন না এবং নিয়মিত চা পানের পাশাপাশি প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি সর্বনিম্ন। সবুজ চায়ের তুলনায় কালো চা অনেক ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া মাঝারি কড়া চা পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

তবে গবেষকরা অত্যন্ত গরম চা পানের ক্ষতিকর দিকের কথাও তুলে ধরেছেন। যেসব মানুষ অতিরিক্ত গরম চা পান করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাই সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত তাপমাত্রায় চা পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

চায়ের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নামক বিশেষ উপাদান থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো রক্তনালীর ভেতরের কোষ রক্ষা করে এবং ধমনী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত চা পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সহজ হয়।

জনপ্রিয়

সরকার এলএনজি কিনবে তিন প্রতিষ্ঠান থেকে

চা পান: স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী সুফলগুলো পেতে যা করতে হবে

প্রকাশিত ০৩:০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: এক কাপ চা কেবল ক্লান্তি দূর করে না, বরং এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও। নিয়মিত চা পানের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে এই পানীয় থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার বিষয়টি মূলত নির্ভর করে এটি প্রস্তুত এবং খাওয়ার পদ্ধতির ওপর। অতিরিক্ত উত্তপ্ত চায়ের চেয়ে মাঝারি গরম চা পান করা শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

সম্প্রতি ‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’ প্রকাশিত এক গবেষণায় চা তৈরির প্রক্রিয়া ও পান করার অভ্যাসের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ডা. লিয়ানা ওয়েন সিএনএনকে জানান, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের হৃদরোগের আশঙ্কা কম চা পানকারীদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম থাকে। বয়স, ওজন, ধূমপান কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো হিসাব করার পরও এই ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা ধূমপান করেন না এবং নিয়মিত চা পানের পাশাপাশি প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি সর্বনিম্ন। সবুজ চায়ের তুলনায় কালো চা অনেক ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া মাঝারি কড়া চা পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

তবে গবেষকরা অত্যন্ত গরম চা পানের ক্ষতিকর দিকের কথাও তুলে ধরেছেন। যেসব মানুষ অতিরিক্ত গরম চা পান করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাই সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত তাপমাত্রায় চা পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

চায়ের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নামক বিশেষ উপাদান থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো রক্তনালীর ভেতরের কোষ রক্ষা করে এবং ধমনী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত চা পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সহজ হয়।