লাইফস্টাইল ডেস্ক: ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার অন্যতম সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম হলো নিয়মিত হাঁটা। তবে সাধারণ মানুষ প্রায়ই জানতে চান যে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার পর শরীর থেকে ঠিক কতটুকু ক্যালোরি অপসারিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সুস্থতা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার মাধ্যমে মূলত কোনো ব্যক্তির শারীরিক ওজন, হাঁটার গতি এবং রাস্তার ধরনের ওপর ভিত্তি করে ক্যালোরি খরচের পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে থাকে। মার্কিন পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক লরা শোবার স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ কারিনা টলেন্টিনো চিকিৎসাগতভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
অ্যাথলেটিক নির্দেশিকা ‘কমপেন্ডিয়াম অব ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’-এর তথ্য অনুযায়ী ৭৭ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তি সমতল সড়কে বিভিন্ন গতিতে হাঁটলে তার ক্যালোরি ক্ষয়ের নির্দিষ্ট হিসাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঘণ্টায় প্রায় তিন কিলোমিটার গতিতে চললে প্রতি কিলোমিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়, যা গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। ব্যায়ামের তীব্রতা মাপার জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘মেটাবলিক ইকুইভ্যালেন্ট অব টাস্ক’ বা সংক্ষেপে ‘মেট’ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী ধীর গতি থেকে শুরু করে অত্যন্ত দ্রুত গতির ব্রিস্ক ওয়াকিং পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ‘মেট’ মান নির্ধারিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কারিনা টলেন্টিনো উল্লেখ করেছেন যে ওজনের তারতম্যের কারণে ক্যালোরি পোড়ার এই ফলাফলে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলে নড়াচড়া করতে বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়, ফলে বেশি ওজনের মানুষেরা সমপরিমাণ হাঁটলেও তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সক্ষম হন। এছাড়া কম সময়ে অধিক ক্যালোরি ক্ষয় করার জন্য সমতল সড়কের পরিবর্তে পাহাড়ি বা উঁচু রাস্তায় হাঁটা, গতির পরিবর্তন করা, গান শোনা কিংবা দৈনন্দিন জীবনে সিঁড়ি ব্যবহারের মতো কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। কানাডার ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ অ্যামি কোয়ান ডেস্কে কাজ করার ফাঁকে সামান্য পায়চারি করে পেশি সক্রিয় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহৌষধ হিসেবে কাজ করে এবং এটি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাময়িকী ‘জ্যামা’-তে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক কদম ফেলার মাধ্যমে ক্যানসার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি, বাতের ব্যথা উপশম, রাতের গভীর ঘুম নিশ্চিতকরণ এবং মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে মানসিক অবসাদ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।





































