ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্ল্যাক হোলের মূল উপাদান ডার্ক ম্যাটার নয়, বলছে গবেষণা

প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাবিশ্বের অধিকাংশ পদার্থ রহস্যময় অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত হলেও তা ছায়াপথের চেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলগুলোর প্রধান উপাদান নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাইট স্পেস ডটকমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। গবেষকরা খতিয়ে দেখেছেন ছায়াপথের চেয়েও বড় ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটার কি না। মহাবিশ্বের ছায়াপথগুলো দ্রুত ঘূর্ণনশীল থাকার পরও যেন ভেঙে না পড়ে, সেজন্য অদৃশ্য পদার্থের অস্তিত্বের কথা বলে আসছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশই এই ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত। তবে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব নিয়ে এখনো বহু রহস্য অমীমাংসিত রয়েছে এবং এর সঠিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। গবেষক দলের বড় একটি অংশ মনে করেন, ভারী ও সুদূর অন্ধকার গভীরে সহজে দৃশ্যমান না হওয়া ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। সম্প্রতি গবেষকরা এমন বড় ব্ল্যাক হোলের সন্ধান করেছেন যা সূর্যের ভরের চেয়েও ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি ভারী হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অসংখ্য ছায়াপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরও এ ধরনের কোনো অতি-বড় ব্ল্যাক হোলের উপস্থিতি পাননি। বর্তমানে বিজ্ঞানীদের জানা সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলটির ভর আনুমানিক ৩ হাজার ৬০০ কোটি সূর্যের ভরের সমান। গবেষকরা মহাবিশ্বের সূচনালগ্ন থেকে আসা আলো নিয়ে গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। মহাবিশ্ব তৈরির পর প্রথম তিন লাখ ৮০ হাজার বছর ধরে পুরো মহাকাশ উত্তপ্ত প্লাজমায় পরিপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে মহাবিশ্বের প্রসারণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে পরমাণু গঠন করে এবং আলো স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ পায়।

জার্মানির মেইনজ ইনস্টিটিউট অফ থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও গবেষণার সহ-লেখক ক্রিস্টোফার গেরলাচ এই তথ্য জানিয়েছেন। গবেষকরা মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এর তাপমাত্রা স্থানভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয় যা পদার্থ ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি বলে দেয়। মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে অতি-বড় ব্ল্যাক হোলগুলো থাকলে মহাবিশ্ব যেভাবে দানাদার হওয়ার কথা ছিল আদতে তা নয়।

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে অতি-বড় ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের কোনো উল্লেখযোগ্য অংশ হতে পারে না। তবে এর মানে এই নয় যে বড় ব্ল্যাক হোলগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞানীরা এখন গ্রহাণু আকারের তুলনামূলক ক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের প্রধান উপাদান কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। আগামী ছাব্বিশ অক্টোবর বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হবে। মহাবিশ্বের গঠন ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনে এই গবেষণা নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

জনপ্রিয়

এআই জোয়ারে কেন ডেটা সেন্টারের নতুন ভরসা ‘ফিউয়েল সেল’?

ব্ল্যাক হোলের মূল উপাদান ডার্ক ম্যাটার নয়, বলছে গবেষণা

প্রকাশিত ১২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাবিশ্বের অধিকাংশ পদার্থ রহস্যময় অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত হলেও তা ছায়াপথের চেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলগুলোর প্রধান উপাদান নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাইট স্পেস ডটকমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। গবেষকরা খতিয়ে দেখেছেন ছায়াপথের চেয়েও বড় ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটার কি না। মহাবিশ্বের ছায়াপথগুলো দ্রুত ঘূর্ণনশীল থাকার পরও যেন ভেঙে না পড়ে, সেজন্য অদৃশ্য পদার্থের অস্তিত্বের কথা বলে আসছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশই এই ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত। তবে ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব নিয়ে এখনো বহু রহস্য অমীমাংসিত রয়েছে এবং এর সঠিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। গবেষক দলের বড় একটি অংশ মনে করেন, ভারী ও সুদূর অন্ধকার গভীরে সহজে দৃশ্যমান না হওয়া ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। সম্প্রতি গবেষকরা এমন বড় ব্ল্যাক হোলের সন্ধান করেছেন যা সূর্যের ভরের চেয়েও ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি ভারী হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অসংখ্য ছায়াপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরও এ ধরনের কোনো অতি-বড় ব্ল্যাক হোলের উপস্থিতি পাননি। বর্তমানে বিজ্ঞানীদের জানা সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলটির ভর আনুমানিক ৩ হাজার ৬০০ কোটি সূর্যের ভরের সমান। গবেষকরা মহাবিশ্বের সূচনালগ্ন থেকে আসা আলো নিয়ে গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। মহাবিশ্ব তৈরির পর প্রথম তিন লাখ ৮০ হাজার বছর ধরে পুরো মহাকাশ উত্তপ্ত প্লাজমায় পরিপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে মহাবিশ্বের প্রসারণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে পরমাণু গঠন করে এবং আলো স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ পায়।

জার্মানির মেইনজ ইনস্টিটিউট অফ থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও গবেষণার সহ-লেখক ক্রিস্টোফার গেরলাচ এই তথ্য জানিয়েছেন। গবেষকরা মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এর তাপমাত্রা স্থানভেদে সামান্য পরিবর্তিত হয় যা পদার্থ ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি বলে দেয়। মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে অতি-বড় ব্ল্যাক হোলগুলো থাকলে মহাবিশ্ব যেভাবে দানাদার হওয়ার কথা ছিল আদতে তা নয়।

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে অতি-বড় ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের কোনো উল্লেখযোগ্য অংশ হতে পারে না। তবে এর মানে এই নয় যে বড় ব্ল্যাক হোলগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞানীরা এখন গ্রহাণু আকারের তুলনামূলক ক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোলগুলো ডার্ক ম্যাটারের প্রধান উপাদান কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। আগামী ছাব্বিশ অক্টোবর বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হবে। মহাবিশ্বের গঠন ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনে এই গবেষণা নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।