ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে নিপীড়ন: দুই রেস্তোরাঁ মালিকের কারাদণ্ড

অপরাধ ডেস্ক: কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে বাংলাদেশি এক নারীকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে দেশটির আদালত দুই রেস্তোরাঁ পরিচালককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। স্যাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ সম্প্রতি এই রায় ঘোষণা করেন। কানাডার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং ভুক্তভোগী নারীর গোপনীয়তা রক্ষায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মাসুম ও সোহেল হায়দার। আদালতের রায়ে মানব পাচার এবং একাধিকবার নিপীড়নের দায়ে মোহাম্মদ মাসুমকে মোট চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপর আসামি সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ভ্রমণ ভিসায় কানাডায় আসার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে কাজ খুঁজছিলেন ওই নারী। সোহেল হায়দারের মাধ্যমে গুল লেক এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় মাসিক এক হাজার ডলার বেতনে যোগ দিলেও তাকে কোনো কাজের অনুমতিপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করানো হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তাকে টিসডেল এলাকায় মোহাম্মদ মাসুমের আরেকটি রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। সেখানেও তাকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়। এই সুযোগে মাসুম পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে একাধিকবার যৌন নিপীড়ন করেন বলে শুনানিতে উঠে আসে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতায় ওই নারীর ওপর চলা নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সাইপ্রাস হিলস এলাকার আইনসভার সদস্য ডাগ স্টিল রেস্তোরাঁটিতে গিয়ে ওই নারীর পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আরেক এমএলএর সহায়তায় ছদ্মবেশে সেখানে যোগাযোগ নম্বর পৌঁছে দেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী জানান যে এই মর্মান্তিক ঘটনা তার জীবন, সম্মান ও ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন যে আসামিরা ওই নারীর অসহায়ত্ব এবং কানাডায় থাকার তীব্র ইচ্ছাকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আদালত দুই আসামিকে ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ায় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করলেও আদালত তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন।

জনপ্রিয়

এআই জোয়ারে কেন ডেটা সেন্টারের নতুন ভরসা ‘ফিউয়েল সেল’?

কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে নিপীড়ন: দুই রেস্তোরাঁ মালিকের কারাদণ্ড

প্রকাশিত ০১:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে বাংলাদেশি এক নারীকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে দেশটির আদালত দুই রেস্তোরাঁ পরিচালককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। স্যাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ সম্প্রতি এই রায় ঘোষণা করেন। কানাডার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং ভুক্তভোগী নারীর গোপনীয়তা রক্ষায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মাসুম ও সোহেল হায়দার। আদালতের রায়ে মানব পাচার এবং একাধিকবার নিপীড়নের দায়ে মোহাম্মদ মাসুমকে মোট চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপর আসামি সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ভ্রমণ ভিসায় কানাডায় আসার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে কাজ খুঁজছিলেন ওই নারী। সোহেল হায়দারের মাধ্যমে গুল লেক এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় মাসিক এক হাজার ডলার বেতনে যোগ দিলেও তাকে কোনো কাজের অনুমতিপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করানো হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তাকে টিসডেল এলাকায় মোহাম্মদ মাসুমের আরেকটি রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। সেখানেও তাকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়। এই সুযোগে মাসুম পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে একাধিকবার যৌন নিপীড়ন করেন বলে শুনানিতে উঠে আসে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতায় ওই নারীর ওপর চলা নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সাইপ্রাস হিলস এলাকার আইনসভার সদস্য ডাগ স্টিল রেস্তোরাঁটিতে গিয়ে ওই নারীর পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে আরেক এমএলএর সহায়তায় ছদ্মবেশে সেখানে যোগাযোগ নম্বর পৌঁছে দেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী জানান যে এই মর্মান্তিক ঘটনা তার জীবন, সম্মান ও ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন যে আসামিরা ওই নারীর অসহায়ত্ব এবং কানাডায় থাকার তীব্র ইচ্ছাকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আদালত দুই আসামিকে ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ায় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করলেও আদালত তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন।