প্রযুক্তি ডেস্ক: অ্যাপলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডএবল স্মার্টফোন আইফোন ডুও সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। প্রায় দুই হাজার ডলার মূল্যের এই ডিভাইসটির সরবরাহ সীমিত থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও আগের মডেলগুলোর মতো নজিরবিহীন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। সিঙ্গাপুর, সাংহাই, লন্ডন এবং স্যান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে ফোনটির চাহিদা বেশ ভালো থাকলেও বিক্রির পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের দখলে থাকা ফোল্ডএবল বাজারে অ্যাপলের এই প্রবেশকে একটি বড় ব্যবসায়িক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন এই ফোনটি উন্মোচনের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পাওয়া গেছে, যা অ্যাপলের বর্ণনা অনুযায়ী অসাধারণের চেয়েও বেশি। গ্রাহকপ্রতি মাত্র দুটি ফোন কেনার সীমা নির্ধারণ করার পাশাপাশি সরাসরি দোকান থেকে ক্রয়ের সুযোগও সীমিত রাখা হয়েছে। চীন, ফ্রান্স, হংকং, ভারত ও জাপানে কেবল অনলাইনে আগাম অর্ডার দেওয়া ক্রেতারাই এই ডিভাইসটি সংগ্রহ করতে পারছেন। এর ফলে আগাম অর্ডার শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরবরাহের সম্ভাব্য সময় আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। ডিভাইসটি বাজারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে অ্যাপল স্টোরগুলোর সামনে কিছু ক্রেতাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস এবং বিপণন প্রধান গ্রেগ জসউইয়ক বিভিন্ন শহরের স্টোরে উপস্থিত হয়ে ক্রেতাদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সিডনি ও সাংহাইয়ের মতো শহরে অনেক ভক্ত সকাল ৬টা থেকেই দোকানের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ নিজের ব্যবহারের জন্য, কেউ বা উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবার কেউ কেউ সামান্য লাভের আশায় ফোনটি সংগ্রহ করেছেন। উচ্চমূল্য এবং বিলাসবহুল পণ্য হওয়া সত্ত্বেও অ্যাপল ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থার কারণে অনেক ক্রেতা লাইন ধরে ডিভাইসটি কিনেছেন।
প্রযুক্তি পর্যালোচকেরা আইফোন ডুওর দৃষ্টিনন্দন নকশা এবং প্রায় অদৃশ্য কবজার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা ফোল্ডএবল ফোনের দীর্ঘদিনের দৃশ্যমান ভাঁজের সমস্যাটি অনেকটাই দূর করেছে। তবে ক্যামেরায় টেলিফটো লেন্স না থাকা এবং ভাঁজ করা অবস্থায় দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজ করতে কিছু অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন তারা। কিছু বিশ্লেষক ও কনটেন্ট নির্মাতা পণ্যটিকে পুরোপুরি প্রস্তুত না বলে প্রোটোটাইপ হিসেবে আখ্যায়িত করে সাধারণ গ্রাহকদের এটি কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবুও যেসব ব্যবহারকারীর কাছে বাজেট কোনো সমস্যা নয়, তাদের কাছে ডিভাইসটির অভিনবত্ব বেশ আকর্ষণীয় ঠেকেছে।
ফোল্ডএবল বাজারের বর্তমান চিত্র বদলে দিতে পারে কি না, তা মূলত এই আইফোন ডুওর বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি মেমোরি চিপের বাড়তি দাম এবং ক্রেতাদের চাহিদার মন্দা সত্ত্বেও অ্যাপলের বাজার দখল ধরে রাখতে এই মডেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বরে হার্ডওয়্যার প্রধান থেকে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া জন টার্নাসের জন্য এটিই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, সীমিত সরবরাহ এবং কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে আইফোন ডুও নিয়ে উন্মাদনা স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে।





































