ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে: আব্দুল কাদের

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রপথিক দাবিদার এই দলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

পোস্টে তিনি বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ওই মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করতে বাধা দেয় জামায়াত নেতাকর্মীরা এবং মব সৃষ্টি করে কবর ভরাট করে ফেলে। অথচ এমন অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও এনসিপি সাংগঠনিকভাবে পুরোপুরি নির্বিকার ও নির্লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি দলটির কোনো নেতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ন্যূনতম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ পর্যন্ত জানানো হয়নি বলে জানান এই সাবেক ছাত্রনেতা।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে এনসিপির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন আব্দুল কাদের। তার মতে, মৃত ব্যক্তি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও এনসিপি এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে এবং পরোক্ষভাবে মব কালচারকে সমর্থন জুগিয়েছে। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এনসিপির ছাত্রসংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। অথচ এরপর উল্টো সরকারের সমালোচনা করে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার কৃতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নারীর অধিকার ও মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক সমন্বয়ক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নারী নির্যাতন কিংবা বিভিন্ন স্থানে নিপীড়নের ঘটনার পরও এনসিপির নারী নেতৃত্ব বা মূল দলের নেতারা কোনো প্রতিবাদ জানাননি এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াননি। অথচ রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন ভুয়া প্রোপাগাণ্ডার প্রতিবাদে তারা সরব হলেও মৌলিক মানবাধিকারের প্রশ্নে নীরব থাকেন। সার্বিক এসব বিষয়ে এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল কাদের।

জনপ্রিয়

পাবিপ্রবিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ‎

এনসিপি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে: আব্দুল কাদের

প্রকাশিত ১২:৫২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রপথিক দাবিদার এই দলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

পোস্টে তিনি বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ওই মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করতে বাধা দেয় জামায়াত নেতাকর্মীরা এবং মব সৃষ্টি করে কবর ভরাট করে ফেলে। অথচ এমন অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও এনসিপি সাংগঠনিকভাবে পুরোপুরি নির্বিকার ও নির্লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি দলটির কোনো নেতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ন্যূনতম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ পর্যন্ত জানানো হয়নি বলে জানান এই সাবেক ছাত্রনেতা।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে এনসিপির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন আব্দুল কাদের। তার মতে, মৃত ব্যক্তি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও এনসিপি এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে এবং পরোক্ষভাবে মব কালচারকে সমর্থন জুগিয়েছে। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এনসিপির ছাত্রসংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। অথচ এরপর উল্টো সরকারের সমালোচনা করে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার কৃতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নারীর অধিকার ও মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক সমন্বয়ক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নারী নির্যাতন কিংবা বিভিন্ন স্থানে নিপীড়নের ঘটনার পরও এনসিপির নারী নেতৃত্ব বা মূল দলের নেতারা কোনো প্রতিবাদ জানাননি এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াননি। অথচ রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন ভুয়া প্রোপাগাণ্ডার প্রতিবাদে তারা সরব হলেও মৌলিক মানবাধিকারের প্রশ্নে নীরব থাকেন। সার্বিক এসব বিষয়ে এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল কাদের।