ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে তেল মজুত করবে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও জোরদার রাখতে সিঙ্গাপুরের জুরং রক কাভার্নস-এ অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা যৌথভাবে এই উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

এই সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশকে তাদের সংরক্ষিত জ্বালানি খরচ করতে বাধ্য হতে হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মজুদের মাত্রা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধের আগে এশিয়া অঞ্চলে মোট তেল সরবরাহের দুই-তৃতীয়াংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হতো। সিঙ্গাপুরের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তান সি লেং জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এই তেল মজুত ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যবস্থা চালুর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

একইসঙ্গে কোনো কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সিঙ্গাপুরের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা সৌদি আরামকো সিঙ্গাপুরের এনার্জি মার্কেট অথরিটি এবং জেটিসি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতাস্মারক সই করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে ভিডিওবার্তায় সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আল-সৌদ মন্তব্য করেছেন যে, এশিয়ার বড় বাজারগুলোর কাছাকাছি তেল বা জ্বালানি মজুত থাকলে ক্রেতারা অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে তেল পেতে সক্ষম হবে। এর ফলে বাজারে যেকোনো ধরনের তেল সংকট দেখা দিলেও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো নিরাপদে থাকতে পারবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সহজে সামাল দিতে পারবে।

উল্লেখ্য, জুরং রক ক্যাভার্নস হলো সিঙ্গাপুরের জুরং দ্বীপে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক তরল তেল সরক্ষণাগার। ভূমি থেকে ১৫০ মিটার বা ৪৯২ ফুট নিচে অবস্থিত এই পাথুরে ভূগর্ভস্থ গুহাগুলোতে ১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ঘনমিটার বা প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তরল হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমানে সৌদি আরামকো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরিশোধিত তেল মজুত করে আসছে এবং অপ্রত্যাশিত তেলের ঘাটতি দেখা দিলে এসব মজুত থেকে তেল ক্রয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

জনপ্রিয়

অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফিজিকে হারাল বাংলাদেশ

এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে তেল মজুত করবে সৌদি আরব

প্রকাশিত ১০:৫২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও জোরদার রাখতে সিঙ্গাপুরের জুরং রক কাভার্নস-এ অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা যৌথভাবে এই উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

এই সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশকে তাদের সংরক্ষিত জ্বালানি খরচ করতে বাধ্য হতে হয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মজুদের মাত্রা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধের আগে এশিয়া অঞ্চলে মোট তেল সরবরাহের দুই-তৃতীয়াংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হতো। সিঙ্গাপুরের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তান সি লেং জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এই তেল মজুত ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যবস্থা চালুর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

একইসঙ্গে কোনো কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সিঙ্গাপুরের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থা সৌদি আরামকো সিঙ্গাপুরের এনার্জি মার্কেট অথরিটি এবং জেটিসি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতাস্মারক সই করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে ভিডিওবার্তায় সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আল-সৌদ মন্তব্য করেছেন যে, এশিয়ার বড় বাজারগুলোর কাছাকাছি তেল বা জ্বালানি মজুত থাকলে ক্রেতারা অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে তেল পেতে সক্ষম হবে। এর ফলে বাজারে যেকোনো ধরনের তেল সংকট দেখা দিলেও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো নিরাপদে থাকতে পারবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সহজে সামাল দিতে পারবে।

উল্লেখ্য, জুরং রক ক্যাভার্নস হলো সিঙ্গাপুরের জুরং দ্বীপে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক তরল তেল সরক্ষণাগার। ভূমি থেকে ১৫০ মিটার বা ৪৯২ ফুট নিচে অবস্থিত এই পাথুরে ভূগর্ভস্থ গুহাগুলোতে ১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ঘনমিটার বা প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তরল হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমানে সৌদি আরামকো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরিশোধিত তেল মজুত করে আসছে এবং অপ্রত্যাশিত তেলের ঘাটতি দেখা দিলে এসব মজুত থেকে তেল ক্রয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।