ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo একদিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী Logo টাইগার শ্রফ নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন আমির, কেন বদলাল টার্গেট? Logo অস্থিরতা দূর করার উপায় Logo ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয়: সামনে বৈরি সংসদ ও বিভক্ত দেশের চ্যালেঞ্জ Logo আরও একবছর অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার Logo ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা-উদ্বেগ, অপসারণের দাবি Logo ‘ভারতীয় শীর্ষ গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক’ Logo ‘মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্যবিয়ে সমাধান নয়’ Logo ‘মিথ্যায়’ ভর করে শাহাদাত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন: এনসিপি Logo এক দিনের জনপ্রতিনিধি হলে শিশুদের জন্য কাজ করতাম

ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয়: সামনে বৈরি সংসদ ও বিভক্ত দেশের চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান বামপন্থি নেতা লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, সব ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট এবং তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। তবে এই ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলসোনারো নির্বাচন বাতিলের জন্য আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীর আপত্তি সত্ত্বেও এই জয়কে লুলা ও তার সমর্থকরা একটি ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে উদযাপন করছেন। এটি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার চতুর্থ জয় এবং এর আগে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে লুলার সামনে মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে যার একটি হলো ডানপন্থি দলগুলোর আধিপত্যে ঘেরা বৈরি সংসদ বা কংগ্রেস এবং অন্যটি তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত একটি দেশ। সাবেক প্রেসিডেন্টের লিবারেল পার্টি ও তাদের সহযোগীরা কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ার আভাস থাকায় লুলার সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও নীতিগুলো পাস করা কঠিন হবে। এছাড়া প্রথম দফার ভোটের পর তীব্র প্রচার ও পথসভার মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে জয় ছিনিয়ে আনলেও ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে যে দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ লুলার মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই বড় দেশটির নির্বাচনে লুলার এই জয় অঞ্চলের রাজনীতিতে ডানপন্থার উত্থান রুখে দিলেও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও নানা সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

হোয়াইট হাউজের প্রভাববলয় এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে লুলার স্বাধীন ও দৃঢ় অবস্থান অতীতেও আলোচিত হয়েছে যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, লুটার এই বিজয়ে পরিবেশবাদীরা যথেষ্ট স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কারণ বলসোনারো জয়ী হলে আমাজন বনে বন উজাড় ও অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল। ফ্লাভিওর শিথিল পরিবেশনীতির বিপরীতে লুলার বিজয় গুরুত্বপূর্ণ এই ইকোসিস্টেম রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কট্টর ডানপন্থি কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা এবং বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটি লুলার জন্য বেশ জটিল হবে।

নির্বাচনের আগে লুলা এই নির্বাচনকে ব্রাজিলের জন্য একটি যুগান্তকারী বাঁক হিসেবে উল্লেখ করে দুই বিপরীত মেরুর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সবার জন্য সমান সুযোগ ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়ার লড়াইয়ে তিনি অবিচল থাকার কথা জানান। তবে বৈরি কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করে চতুর্থ মেয়াদ পার করার সময় লুলার বয়স বেশি থাকায় এই যাত্রা আগের মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে লুলার এই প্রত্যাবর্তন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

একদিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী

ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয়: সামনে বৈরি সংসদ ও বিভক্ত দেশের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত ০৮:২২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষীয়ান বামপন্থি নেতা লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, সব ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট এবং তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। তবে এই ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলসোনারো নির্বাচন বাতিলের জন্য আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীর আপত্তি সত্ত্বেও এই জয়কে লুলা ও তার সমর্থকরা একটি ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে উদযাপন করছেন। এটি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার চতুর্থ জয় এবং এর আগে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে লুলার সামনে মূলত দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে যার একটি হলো ডানপন্থি দলগুলোর আধিপত্যে ঘেরা বৈরি সংসদ বা কংগ্রেস এবং অন্যটি তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত একটি দেশ। সাবেক প্রেসিডেন্টের লিবারেল পার্টি ও তাদের সহযোগীরা কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ার আভাস থাকায় লুলার সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও নীতিগুলো পাস করা কঠিন হবে। এছাড়া প্রথম দফার ভোটের পর তীব্র প্রচার ও পথসভার মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে জয় ছিনিয়ে আনলেও ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে যে দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ লুলার মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই বড় দেশটির নির্বাচনে লুলার এই জয় অঞ্চলের রাজনীতিতে ডানপন্থার উত্থান রুখে দিলেও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও নানা সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

হোয়াইট হাউজের প্রভাববলয় এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে লুলার স্বাধীন ও দৃঢ় অবস্থান অতীতেও আলোচিত হয়েছে যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, লুটার এই বিজয়ে পরিবেশবাদীরা যথেষ্ট স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কারণ বলসোনারো জয়ী হলে আমাজন বনে বন উজাড় ও অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল। ফ্লাভিওর শিথিল পরিবেশনীতির বিপরীতে লুলার বিজয় গুরুত্বপূর্ণ এই ইকোসিস্টেম রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কট্টর ডানপন্থি কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা এবং বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজটি লুলার জন্য বেশ জটিল হবে।

নির্বাচনের আগে লুলা এই নির্বাচনকে ব্রাজিলের জন্য একটি যুগান্তকারী বাঁক হিসেবে উল্লেখ করে দুই বিপরীত মেরুর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সবার জন্য সমান সুযোগ ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়ার লড়াইয়ে তিনি অবিচল থাকার কথা জানান। তবে বৈরি কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করে চতুর্থ মেয়াদ পার করার সময় লুলার বয়স বেশি থাকায় এই যাত্রা আগের মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে লুলার এই প্রত্যাবর্তন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।