ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি Logo এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে তেল মজুত করবে সৌদি আরব Logo অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রী Logo নিপ্পন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যানের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী Logo মিরপুরে ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের ১৯তম শাখার উদ্বোধন Logo জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন: স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের জন্য আবেদন ফি কমল Logo সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির নতুন রেক্টর আব্দুর রউফ Logo আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি ঢুকতে পারবেন প্রবাসীরা: মন্ত্রী Logo বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই পারে দেশকে পরিবর্তন করতে: ডিসি ফরিদা Logo একদিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী

অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: অনলাইনে কেনা ট্রেনের টিকিট চড়া দামে অন্যের কাছে বিক্রি করার অবৈধ চক্র পুরোপুরি দমন করা বেশ জটিল বিষয়। ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান যে, এই ধরনের অপতৎপরতা রোধ করতে এবং জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে অনলাইন টিকিটের সফটওয়্যারে নতুন প্রযুক্তিগত ফিচার যোগ করার চেষ্টা চলছে। টিকিটের এই কালোবাজারি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান যে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির সময় একসাথে লাখ লাখ মানুষের প্রবেশ চেষ্টার কারণে সার্ভারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঈদের ছুটির সময়ে প্রতিদিন মাত্র বত্রিশ হাজার টিকিটের বিপরীতে প্রায় ছত্রিশ থেকে সাঁইত্রিশ লাখ মানুষ তা কেনার চেষ্টা করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারেন, তবুও একাধিক ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে অনেক টিকিট সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে তা বিক্রি করে থাকেন। অনলাইনে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথম প্রবেশকারীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার নিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন যে, পূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত এবং নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন তিন জোড়া ট্রেন চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা সাত জোড়ায় উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া চট্টগ্রামের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে খাতকে মানসম্মতভাবে পুনর্গঠন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ট্রেনের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানান যে, স্টেশনে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের যত্রতত্র চলাচল এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে যাত্রীদের আহত করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

জনপ্রিয়

আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি

অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রী

প্রকাশিত ১০:৩৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: অনলাইনে কেনা ট্রেনের টিকিট চড়া দামে অন্যের কাছে বিক্রি করার অবৈধ চক্র পুরোপুরি দমন করা বেশ জটিল বিষয়। ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান যে, এই ধরনের অপতৎপরতা রোধ করতে এবং জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে অনলাইন টিকিটের সফটওয়্যারে নতুন প্রযুক্তিগত ফিচার যোগ করার চেষ্টা চলছে। টিকিটের এই কালোবাজারি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান যে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির সময় একসাথে লাখ লাখ মানুষের প্রবেশ চেষ্টার কারণে সার্ভারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঈদের ছুটির সময়ে প্রতিদিন মাত্র বত্রিশ হাজার টিকিটের বিপরীতে প্রায় ছত্রিশ থেকে সাঁইত্রিশ লাখ মানুষ তা কেনার চেষ্টা করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারেন, তবুও একাধিক ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে অনেক টিকিট সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে তা বিক্রি করে থাকেন। অনলাইনে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথম প্রবেশকারীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার নিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন যে, পূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত এবং নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন তিন জোড়া ট্রেন চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা সাত জোড়ায় উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া চট্টগ্রামের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে খাতকে মানসম্মতভাবে পুনর্গঠন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ট্রেনের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানান যে, স্টেশনে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের যত্রতত্র চলাচল এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে যাত্রীদের আহত করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।