ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ূন কবির Logo সম্বল নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, হারালেন সন্তানকে Logo নিউজরুম বন্ধের ঝুঁকি: মোদীর ‘গোপনীয়তা আইন’ এর বিরুদ্ধে আদালতে সংবাদমাধ্যমগুলো Logo সাফের টিকেট সর্বোচ্চ ১০ হাজার, সর্বনিম্ন ১ হাজার Logo কম্বোডিয়ায় নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার Logo মান্ধানার অবনতিতে শীর্ষে ফিরলেন উলভার্ট Logo ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের Logo প্লাস্টিক পণ্যের দাপট, টিকে থাকার লাড়াইয়ে বাঁশ পণ্যের কুটিরশিল্প Logo বন্ধুত্বে ভুল বোঝাবুঝি হলে আমি যা করি Logo কর্মক্ষেত্র থেকে সংক্ষিপ্ত অবসর: জীবন গড়ার সুযোগ, নাকি ঝুঁকি?

প্লাস্টিক পণ্যের দাপট, টিকে থাকার লাড়াইয়ে বাঁশ পণ্যের কুটিরশিল্প

অর্থনীতি ডেস্ক: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক বাঁশজাত পণ্যের ব্যবহার প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনে দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাছ ধরার ফাঁদ, কুলা, ঝুড়ি কিংবা গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহৃত এসব সামগ্রী এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। চরফ্যাশন পৌর সদরের কালীবাড়ি গেটসংলগ্ন সড়কে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে আধুনিক প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পটি চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাঁশের উচ্চমূল্য, পরিবহন খরচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতাদের সীমিত ক্রয়ক্ষমতার কারণে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়ানো যাচ্ছে না। ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেশি খরচ দিয়ে পণ্য তৈরি বা সংগ্রহ করলেও বাজারে তার উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। এছাড়া পুঁজির অভাবে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য কিনে রাখতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ক্রেতারাও প্লাস্টিকের দিকে ঝোঁকার পেছনে কম দাম এবং সহজলভ্যতার কথা বলছেন। ক্রেতা শাহেব আলী ও মো. সুমন মনে করেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বাঁশপণ্যের মান ভালো রাখার পাশাপাশি দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা দরকার। অন্যদিকে, উদ্যোক্তা হেমায়েত উদ্দিন গোলাপ জানান যে বাঁশের পণ্যের ব্যবহার ধরে রাখা গেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, নিয়মিত ও সুলভ মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক বিপণনব্যবস্থা চালু করা গেলে চরফ্যাশনের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ূন কবির

প্লাস্টিক পণ্যের দাপট, টিকে থাকার লাড়াইয়ে বাঁশ পণ্যের কুটিরশিল্প

প্রকাশিত ০৮:০৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক বাঁশজাত পণ্যের ব্যবহার প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনে দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাছ ধরার ফাঁদ, কুলা, ঝুড়ি কিংবা গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহৃত এসব সামগ্রী এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। চরফ্যাশন পৌর সদরের কালীবাড়ি গেটসংলগ্ন সড়কে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে আধুনিক প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পটি চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাঁশের উচ্চমূল্য, পরিবহন খরচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতাদের সীমিত ক্রয়ক্ষমতার কারণে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়ানো যাচ্ছে না। ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেশি খরচ দিয়ে পণ্য তৈরি বা সংগ্রহ করলেও বাজারে তার উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। এছাড়া পুঁজির অভাবে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য কিনে রাখতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ক্রেতারাও প্লাস্টিকের দিকে ঝোঁকার পেছনে কম দাম এবং সহজলভ্যতার কথা বলছেন। ক্রেতা শাহেব আলী ও মো. সুমন মনে করেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বাঁশপণ্যের মান ভালো রাখার পাশাপাশি দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা দরকার। অন্যদিকে, উদ্যোক্তা হেমায়েত উদ্দিন গোলাপ জানান যে বাঁশের পণ্যের ব্যবহার ধরে রাখা গেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, নিয়মিত ও সুলভ মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক বিপণনব্যবস্থা চালু করা গেলে চরফ্যাশনের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।