লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঐতিহ্যগতভাবে অবসরের অর্থ বয়স্ক মানুষের কর্মজীবন শেষে বিশ্রামে যাওয়া হলেও বর্তমান করপোরেট দুনিয়ায় এই ধারণায় বড় পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে তরুণ কর্মী ও জেন জি প্রজন্মের মধ্যে জীবনের শেষভাগের জন্য অপেক্ষা না করে ক্যারিয়ারের মাঝপথে কয়েক মাস বা বছর কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেওয়া এই নতুন জীবনধারাকে ‘মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট’ বা সংক্ষিপ্ত অবসর বলা হচ্ছে। ক্যারিয়ার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. জেসমিন এসকালেরা একে সচেতনভাবে নেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত কেরিয়ার বিরতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন্ডের পেছনে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক ও কর্মক্ষেত্রের মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং করোনাকালীন অতিমারির প্রভাব। মার্কিন গবেষক লরেন মারগোলিস উল্লেখ করেছেন যে, জেন জি কর্মীরা তাদের অভিভাবকদের করপোরেট চাপে পিষ্ট হতে দেখে চাকরিকে জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান না বানিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্লিনিকাল মনোবিদ ড. এলিজাবেথ লোম্বার্ডো জানান যে কাজের তীব্র মানসিক চাপ সাধারণ ছুটিতে দূর হয় না, তাই এই সংক্ষিপ্ত অবসর ডিজিটাল জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মনকে চাঙা করার সুযোগ দেয়। এছাড়া আর্থিক-ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক মনোবিদ কিকি জ্যাকবসন যোগ করেন যে এই বিরতির সময় মানুষ নিজের খরচের ব্যাপারে সচেতন হয়ে ওঠে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস পোক্ত করে।
তবে আকর্ষণীয় মনে হলেও ক্যারিয়ারের মাঝপথে কাজ থামানোর কিছু সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও পেশাগত ঝুঁকিও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। নিয়মিত বেতন বন্ধ থাকায় জমানো টাকায় হাত দিতে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ে বিরতি পড়ায় বড় ধরনের সুবিধা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে দীর্ঘ বিরতি নিলে নতুন দক্ষতা শেখার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কিকি জ্যাকবসন স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো আর্থিক কৌশল নয়, বরং একটি জীবনধারা সম্পর্কিত কৌশল, যা সঠিকভাবে পরিকল্পনা না করলে পেশাগত স্থবিরতা আনতে পারে।
তাই হঠাৎ করে চাকরি না ছেড়ে এই ধরনের বিরতি নেওয়ার আগে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরতি নেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা, প্রয়োজনীয় খরচের নিঁখুত বাজেট তৈরি করা এবং বিরতি শেষে কাজে ফিরে পুনরায় মানসিক চাপ এড়াতে সীমারেখা নির্ধারণের মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। সম্পূর্ণ চাকরি ছেড়ে দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে কর্মক্ষেত্রে ছুটির সদ্ব্যবহার করা বা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কাজের চাপ কমানো নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




































