মতামত ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর অপরিণত বয়সে দুই বোনের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বড় বোনটির বয়স ১৩ বা ১৪ বছর হওয়ার সময়েই তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। অল্প বয়সে বিয়ের পর তার জীবনে বিভিন্ন জটিলতা ও দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ছোট বোনটিরও বাল্যবিয়ে দেওয়া হলে তার সংসারজীবনও অশান্তিময় হয়ে ওঠে। এই দুই বোনের করুণ পরিণতি বাল্যবিয়ের ভয়াবহ বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে এই কিশোরীদের পড়াশোনা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাছাড়া, কম বয়সে সন্তান ধারণ করা মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি না থাকায় তারা পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও নির্যাতন সামলাতে ব্যর্থ হয়। দাম্পত্য জীবনের এমন অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করে।
পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় এসব কিশোরী অর্থনৈতিকভাবে অন্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে হলে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
দরিদ্র পরিবারগুলো যাতে আর্থিক অনটনের কারণে কন্যাশিশুকে বিয়ে দিতে বাধ্য না হয়, সেজন্য তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। কেবল কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাই পরিবার ও সমাজের সব পক্ষকে একত্র হয়ে প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।






































