অপরাধ ডেস্ক: নেত্রকোণা থেকে চট্টগ্রাম আসা দিনমজুর আজহারুল ইসলাম পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় তাঁর আট বছর বয়সি সন্তানসহ মোট পাঁচজন নিহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আজহার ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরিকল্পিত ওভারটেকিং এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি তাদের একমাত্র সম্বল এবং প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে শাপলা পরিবহনের একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের পাশে থামানো হয়েছিল এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তা ঠিক করতে না পারায় যাত্রীদের অন্য বাসে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে গাছের গুঁড়ির ওপর বসে অপেক্ষা করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুটি লরি একে অপরকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় একটি খালি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি যাত্রীদের ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুই জনসহ মোট পাঁচ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিন জন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আজহারুল ইসলাম জানান, তিনি চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রাম এসেছিলেন এবং সম্প্রতি গ্রামে গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময় সঙ্গে থাকা ছোট্ট ফ্রিজ, আসবাবপত্র এবং অলঙ্কারসহ সমস্ত মালামাল দুর্ঘটনায় হারিয়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যান্ডেজ পরিহিত অবস্থায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী তাদের সন্তানের মরদেহের অপেক্ষায় দিন পার করছেন। আজহারের খালাতো ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রামে পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে পরিবারটি সেখানে ছিল এবং গ্রামে ফিরে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু এই আকস্মিক দুর্ঘটনা তাদের সাজানো সংসারকে মুহূর্তেই ছারখার করে দিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ বারআউলিয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক লরিটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনাস্থলে নিহত তিন যাত্রীর পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের একটি দল আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে আট বছরের শিশু রাকিব এবং ত্রিশ বছর বয়সি স্বপ্না আক্তারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা জননিরাপত্তার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।



































