জাতীয় ডেস্ক: জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির একটি ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির এই বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সফরের দ্বিতীয় কার্যদিবসে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক, গার্ড অব অনার গ্রহণ ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।
উভয় নেতার বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ছয় দশমিক তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে দুই দেশ একমত হয়েছে। কোভিড মহামারি, বৈশ্বিক সংকট ও বিগত সরকারের দুর্নীতির কথা বিবেচনা করে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ তিন বছর অতিরিক্ত সময় চেয়েছে।
এছাড়া জাপানের অর্থায়নে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি নগরী গড়ে তোলা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকিতে একটি যৌথ মন্ত্রিপর্যায়ের কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের বিশেষ দূতের ভূমিকা এবং দেশটির সহযোগিতার আশ্বাসের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এই সংকট জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল এবং চিবা লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা ও এলএনজি টার্মিনাল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের এই বৈঠকে মূলত নীতিগত ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।





































