অপরাধ ডেস্ক: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি উপজেলার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা প্রকাশ পায় যখন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকরা বইগুলো বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার দৃশ্য দেখতে পান। টেন্ডার ছাড়াই গোপনে এই সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান যে নির্দিষ্ট দিনে দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করেছিল বিদ্যালয়টি। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে অতিরিক্ত বই সংগ্রহ করা হয় এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছিল। বইয়ের ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ২১ টাকা কেজি দরে তার কাছে এই বইগুলো বিক্রি করেছেন। প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি করে বই রয়েছে এবং তিনি এই বইগুলো পরে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
বিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও প্রধান শিক্ষকের পারস্পরিক যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে। গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের কাছে শিক্ষার্থী সংখ্যা, বইয়ের বরাদ্দ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। প্রধান শিক্ষক সে সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং তিনি সম্মানিত সাংবাদিকদের সম্মানী দিয়ে ভিডিওগুলো ডিলিট করে দিতে বলেন।
তবে টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বা ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন। তিনি জানিয়েছেন যে পুরো বিষয়টি যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা জানিয়েছেন যে সরকারি পাঠ্যবই হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ না করে সেই বই কেজি দরে বিক্রি করা একটি অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধ। এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।



































