ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ছায়ানটে সুরে সুরে কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দীনকে স্মরণ Logo ব্যাট-বলের জমজমাট দিনে অ‍্যাকারম‍্যানের ৯৫, স্টার্কের ৬ উইকেট Logo কেজি দরে পাঠ্যবই বিক্রির সময় শিক্ষক বললেন, ‘সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’ Logo আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের Logo জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে: আখতার Logo জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ূন কবির Logo সম্বল নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, হারালেন সন্তানকে Logo নিউজরুম বন্ধের ঝুঁকি: মোদীর ‘গোপনীয়তা আইন’ এর বিরুদ্ধে আদালতে সংবাদমাধ্যমগুলো Logo সাফের টিকেট সর্বোচ্চ ১০ হাজার, সর্বনিম্ন ১ হাজার Logo কম্বোডিয়ায় নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের

আইন-আদালত ডেস্ক: পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে আইন অনুযায়ী তাঁরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলে পুলিশের নন-ক্যাডার সদস্যদের এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। এর আগে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও আইজিপির ওই মন্তব্যকে একটি সময়োপযোগী আহ্বান বলে সমর্থন জানিয়েছিল।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইজিপির বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘোষণা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা উচিত। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা ও দৃঢ় মনোভাব বোঝাতেই মূলত ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের হামলার মুখোমুখি হতে হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে চলতি বছরের প্রথম দশ মাসের বেশ কিছু সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলায় চারজন সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন আহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জ ও টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মতো বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলার উদাহরণ টেনে বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা সংযম প্রদর্শন করেছেন। বারবার এ ধরনের হামলার শিকার হওয়া পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষা এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে সংগঠনটি।

আইনের শাসনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার ও অস্ত্র ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে খণ্ডিত অংশ প্রচার না করে বক্তব্যের সঠিক প্রেক্ষাপট যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশ ও গণমাধ্যম উভয়েই জনস্বার্থে কাজ করায় একে অপরের পেশাগত বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা উপলব্ধি করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করে। তাই আইজিপির বক্তব্য নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

ছায়ানটে সুরে সুরে কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দীনকে স্মরণ

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের

প্রকাশিত ১০:২২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে আইন অনুযায়ী তাঁরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলে পুলিশের নন-ক্যাডার সদস্যদের এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। এর আগে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও আইজিপির ওই মন্তব্যকে একটি সময়োপযোগী আহ্বান বলে সমর্থন জানিয়েছিল।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইজিপির বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘোষণা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা উচিত। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা ও দৃঢ় মনোভাব বোঝাতেই মূলত ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের হামলার মুখোমুখি হতে হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে চলতি বছরের প্রথম দশ মাসের বেশ কিছু সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলায় চারজন সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন আহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জ ও টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মতো বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলার উদাহরণ টেনে বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা সংযম প্রদর্শন করেছেন। বারবার এ ধরনের হামলার শিকার হওয়া পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষা এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে সংগঠনটি।

আইনের শাসনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার ও অস্ত্র ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে খণ্ডিত অংশ প্রচার না করে বক্তব্যের সঠিক প্রেক্ষাপট যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশ ও গণমাধ্যম উভয়েই জনস্বার্থে কাজ করায় একে অপরের পেশাগত বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা উপলব্ধি করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করে। তাই আইজিপির বক্তব্য নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।