ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই তীব্র ধুলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আবর্জনা ও বালুবাহী ট্রাক চলাচলের পাশাপাশি সড়কের পাশে নির্মাণসামগ্রী ইট, খোয়া ও বালু ফেলে রাখার ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার এই ব্যস্ত পথে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে নাক ও মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে। রিকশাচালক ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, যানবাহনের চলাচলে বাতাসে উড়ে আসা ধুলা তাদের শ্বাসকষ্ট এবং নানা শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় দোকানদার ও কর্মজীবী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত ধুলার কারণে ফুটপাতের ব্যবসা পরিচালনা করা এবং পরিচ্ছন্ন কাপড় পরে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দোকানপাটে ধুলাবালি জমে নষ্ট হচ্ছে পণ্য, যা ক্রেতাদেরও অস্বস্তিতে ফেলছে। মাস্ক ব্যবহার করেও এই ধুলাবালি থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নিয়মিত যাতায়াতকারীরা। শীতের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এদিকে বায়ুমান সূচকে (একিউআই) ঢাকার বাতাসের মান দীর্ঘদিন ধরেই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে, যা এই ধুলার ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোড সুইপার ও ওয়াটার ব্রাউজার দিয়ে নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার রাখার পরিকল্পনা থাকলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও ময়লা-বালির ট্রাকের নিয়মিত চলাচলের কারণে তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যান্ত্রিক পরিচ্ছন্নতার পেছনে অতিরিক্ত তেল খরচ বিবেচনা করে বিকল্প কোনো সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় খোঁজা হচ্ছে।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা কেবল পানি ছিটানো বা পরিচ্ছন্নতার ওপর নির্ভর না করে বায়ুদূষণের মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা দমনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে, নির্মাণকাজের সময় জনদুর্ভোগ রোধে ঠিকাদারদের আইনি বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে তদারকি করা উচিত। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া এই দূষণ সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





































