ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ব্যাংকের শঙ্কা: সংঘাত ও এল নিনিওয় পণ্যমূল্য বাড়বে ২৩%

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং কৃষি উৎপাদনে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তেল সরবরাহে এই পতন গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ঘাটতি হিসেবে দেখা দিতে পারে। জ্বালানির এই চড়া দাম উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প খাতে ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে।

জ্বালানির পাশাপাশি কৃষি উপকরণ ও সারের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনের খরচও ঊর্ধ্বমুখী হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কৃষকদের ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করতে পারে। শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনিওর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার এই প্রবণতা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশ্ব ব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে সতর্ক করে বলেছেন যে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং বাণিজ্যের বাধা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে তাদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান কমার আশঙ্কা রয়েছে এবং চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাংক ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল প্রস্তুত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করতে এবং কৃষি খাতে তারল্য সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

তরুণীর সঙ্গে ভিডিও: ‘ষড়যন্ত্র’ বলছেন নাটোরের এমপি আজিজ

বিশ্ব ব্যাংকের শঙ্কা: সংঘাত ও এল নিনিওয় পণ্যমূল্য বাড়বে ২৩%

প্রকাশিত ০২:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং কৃষি উৎপাদনে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তেল সরবরাহে এই পতন গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ঘাটতি হিসেবে দেখা দিতে পারে। জ্বালানির এই চড়া দাম উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প খাতে ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে।

জ্বালানির পাশাপাশি কৃষি উপকরণ ও সারের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনের খরচও ঊর্ধ্বমুখী হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কৃষকদের ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করতে পারে। শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনিওর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার এই প্রবণতা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশ্ব ব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে সতর্ক করে বলেছেন যে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং বাণিজ্যের বাধা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে তাদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান কমার আশঙ্কা রয়েছে এবং চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাংক ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল প্রস্তুত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করতে এবং কৃষি খাতে তারল্য সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।