ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির প্রভাবে বেড়িবাঁধের জমি দখল করে ‘বসতি বাণিজ্য’

সারাদেশ ডেস্ক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে নবনির্মিত বেড়িবাঁধের পাশের জমি দখল করে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া এই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে করে ওই এলাকার প্রকৃত জমির মালিকরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন এবং চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চর ডেভেলপমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত এই বেড়িবাঁধের জন্য তাঁদের জমি অধিগ্রহণ না করেই কাজ চালানো হয়েছে। এসব জমি সরকারি বন্দোবস্তের নথি ও খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় তাঁরা নিজেদের বৈধ মালিক হিসেবে দাবি করছেন। অথচ নুর নবী ও তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মোড় হারুনের নেতৃত্বে একটি চক্র এই খতিয়ানভুক্ত জমিতে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন করাচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জমি দখলকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধা দিলে জমির মালিকদের প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার মতো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী landowners দের পক্ষ থেকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তদের মাধ্যমে বসতি স্থাপনকারী ব্যক্তিরা নিজেদের ভিটেমাটি হারা বলে স্বীকার করলেও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, দলের নাম ভাঙিয়ে এমন অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। হরণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নুর নবী দলের কেউ নন এবং হারুনের অপকর্মের বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল স্পষ্ট করেছেন যে বেড়িবাঁধের ওপর অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপির প্রভাবে বেড়িবাঁধের জমি দখল করে ‘বসতি বাণিজ্য’

প্রকাশিত ০৭:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে নবনির্মিত বেড়িবাঁধের পাশের জমি দখল করে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া এই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে করে ওই এলাকার প্রকৃত জমির মালিকরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন এবং চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চর ডেভেলপমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত এই বেড়িবাঁধের জন্য তাঁদের জমি অধিগ্রহণ না করেই কাজ চালানো হয়েছে। এসব জমি সরকারি বন্দোবস্তের নথি ও খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় তাঁরা নিজেদের বৈধ মালিক হিসেবে দাবি করছেন। অথচ নুর নবী ও তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মোড় হারুনের নেতৃত্বে একটি চক্র এই খতিয়ানভুক্ত জমিতে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন করাচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জমি দখলকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধা দিলে জমির মালিকদের প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার মতো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী landowners দের পক্ষ থেকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তদের মাধ্যমে বসতি স্থাপনকারী ব্যক্তিরা নিজেদের ভিটেমাটি হারা বলে স্বীকার করলেও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, দলের নাম ভাঙিয়ে এমন অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। হরণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নুর নবী দলের কেউ নন এবং হারুনের অপকর্মের বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল স্পষ্ট করেছেন যে বেড়িবাঁধের ওপর অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।