সারাদেশ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রতীকীভাবে এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন নীলফামারীর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘গার্লস টেক ওভার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিশোরীরা বিভিন্ন দূতাবাস, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে বসছে। এই বৈশ্বিক কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীদের নেতৃত্বের অগ্রভাগে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং নেতৃত্বের ধারণাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুরা সংকটের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই ও সমতার পক্ষে আওয়াজ তোলার মাধ্যমে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাল্যবিবাহকে কন্যাশিশুদের অধিকার ও সমতার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রচারণায় কন্যাদের মতামত ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের সুযোগ তৈরির ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরীদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণের অধিকারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতীকী দায়িত্ব পালনের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী লাবনী জানান যে এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয় তা দেখার ফলে তার নিজস্ব আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিজ্ঞ মানুষদের কাছ থেকে শেখার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কিশোরীদের কথারও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
এই দায়িত্ব পালন শেষে লাবনী তার অর্জিত অভিজ্ঞতা নিজ এলাকার অন্য তরুণদের সঙ্গে বিনিময় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি চান যেন অন্যান্য কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসে। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এই আয়োজনের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান যে যুব নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে তারা আনন্দিত।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তা স্টিফেন ফোর্বস আরও উল্লেখ করেন যে লাবণীর মতো যুব নারীদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তাভাবনা তাদের সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ করে তুলতে সাহায্য করবে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এই মহতী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সব বাধা পেরিয়ে কন্যাশিশুদের এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করা। বিশ্বব্যাপী কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের প্রতীকী নেতৃত্বদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিশোরীদের এমন অংশগ্রহণ সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক দূরদর্শী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




































