সারাদেশ ডেস্ক: মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে এক ভিন্নধর্মী নৌযাত্রার মাধ্যমে উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে। নদীর বুকে এগিয়ে চলা নৌযানের ভেতরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অর্ধশত আত্মপ্রত্যয়ী নারী উদ্যোক্তা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চোখে সম্ভাবনার আলো এবং মনে নিজেদের উদ্যোগ বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা এই আয়োজনে যোগ দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনটি শুধু আনন্দ-ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দিনভর নানা বৈচিত্র্যময় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নিজেদের উদ্যোগ সুসংগঠিত করা, দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বড় বাজারে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা। নৌভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে ছিল নাশতা, সুর-সংগীত এবং নারীদের হাতে তৈরি অন্তত ২৫ পদের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উইয়ের মানিকগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক ও উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার এ্যানী নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে বলেন যে নারীরাই সবকিছু পারে। তিনি নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানিকগঞ্জের ঐতিহ্য ও দেশীয় পণ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেন। তার মতে, একজন নারী এগিয়ে গেলে যেমন পরিবার এগিয়ে যায়, তেমনি অনেক নারী একসঙ্গে এগিয়ে গেলে গোটা দেশ এগিয়ে যায়।
সংগঠনটির গুরুত্ব তুলে ধরে উইয়ের সদস্য ঈশিতা জান্নাত জানান যে এই প্ল্যাটফর্মটি কেবল একটি মাধ্যম নয়, বরং নারীদের স্বপ্নপূরণ ও আত্মনির্ভরশীলতার বড় সাহস। এখানে একজনের সাফল্য অন্য সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া অন্য সদস্যরা এই ঐক্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
অনলাইন বাণিজ্য ও ই-কমার্সের ইতিবাচক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিচয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে অন্য নারীদের পথচলায় সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগানোর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কালীগঙ্গার এই ব্যতিক্রমী মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। এই ধরনের আয়োজন নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যাত্রাকে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।




































