সারাদেশ ডেস্ক: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমানা পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি বাঘের আক্রমণে তিনজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রোববার বিকেল চারটার দিকে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণীটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। হঠাৎ এই হিংস্র প্রাণীর হানায় পুরো সীমান্তবর্তী জনপদে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠঘাট ও ধানখেতের আশেপাশে মানুষজন থাকার সময় এই আকস্মিক ঘটনা ঘটে।
আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শরিফা বেগম মাঠে নিজের একটি ছাগল খুঁজতে গেলে ধানখেতের আড়ালে বাঘটি দেখতে পান এবং বন্যপ্রাণীটির আক্রমণের শিকার হন। তাঁর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে বাঘের উপর্যুপরি আক্রমণে আফসার হোসেন ও নজরুল ইসলাম নামের আরও দুইজন গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা সাহসিকতার সাথে শোরগোল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটিকে প্রতিহত করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহত তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-মেডিকেল কমিউনিটি অফিসার মামুন রহমান জানান, আহতদের মধ্যে আঘাত গুরুতর হওয়ায় শরিফা বেগম ও আফসার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তি নজরুল ইসলাম স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল হক মনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বনচৌকি বিওপির টহল দল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকা ঘিরে ফেলেছেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের সাথে যৌথভাবে বাঘটিকে উদ্ধার বা নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে বাঘটি সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় লুকিয়ে আছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে এবং প্রশাসন লোকজনকে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।





































