ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার এলাকা ঘেরার পরামর্শ

সারাদেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করার সময় ভূগর্ভ থেকে উদ্গত গ্যাসে লাগা আগুন এক দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের তীব্র চাপ থাকায় এবং বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাপেক্স বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আগুন জ্বলতে দিতে হবে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হওয়ায় আশপাশের জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ছোট ইনানী এলাকায় একটি বাড়ির আঙিনায় নলকূপের জন্য মাটি কাটার সময় হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে আসে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় কিন্তু গ্যাসের উচ্চ চাপের কারণে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

বাপেক্স বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাটির নিচের গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি এবং মজুদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে যা পরে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। গ্যাসের এই প্রবাহ পুরোপুরি শেষ হতে এক সপ্তাহ থেকে প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ঘটা দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষজ্ঞরা এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় ঘটনাস্থলের চারপাশে অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ ও পর্যটন এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা প্রধান অগ্রাধিকার। নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

জনপ্রিয়

জগদীশচন্দ্র বসু: প্রথম বাঙালি সায়েন্স ফিকশন লেখক

উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার এলাকা ঘেরার পরামর্শ

প্রকাশিত ১২:২২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করার সময় ভূগর্ভ থেকে উদ্গত গ্যাসে লাগা আগুন এক দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের তীব্র চাপ থাকায় এবং বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাপেক্স বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আগুন জ্বলতে দিতে হবে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হওয়ায় আশপাশের জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ছোট ইনানী এলাকায় একটি বাড়ির আঙিনায় নলকূপের জন্য মাটি কাটার সময় হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে আসে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় কিন্তু গ্যাসের উচ্চ চাপের কারণে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

বাপেক্স বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাটির নিচের গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি এবং মজুদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে যা পরে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। গ্যাসের এই প্রবাহ পুরোপুরি শেষ হতে এক সপ্তাহ থেকে প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ঘটা দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষজ্ঞরা এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় ঘটনাস্থলের চারপাশে অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ ও পর্যটন এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা প্রধান অগ্রাধিকার। নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ওই এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।