সাহিত্য ডেস্ক: বাংলা ভাষায় প্রথম সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির নাম ‘পলাতক তুফান’ এবং এর রচয়িতা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির অন্যতম জনক হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করা এই বিজ্ঞানী শৈশবে সাধারণের ধারা থেকে ব্যতিক্রমী উপায়ে বাংলা স্কুলে শিক্ষালাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে তিনি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন এবং বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জগদীশচন্দ্র বসু জীববিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য সাধনাতেও বিশেষ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন।
১৮৯৬ সালে তিনি ‘নিরুদ্দেশের কাহিনি’ নামে একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি রচনা করেন যা ১৯২১ সালে ‘অব্যক্ত’ প্রবন্ধ সংকলনে ‘পলাতক তুফান’ নামে অন্তর্ভুক্ত হয়। এইচ জি ওয়েলস বা জুল ভার্নের সমসাময়িক সময়ে বাংলার মাটিতে বসে নিজস্ব বৈজ্ঞানিক বোধ থেকে তিনি এই সাহিত্যকর্মটি উপহার দিয়েছিলেন। বেনামে প্রতিযোগিতায় পাঠানো গল্পটি প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ টাকা অর্জন করেছিল। গল্পটির সূচনা হয়েছিল সিমলার আবহাওয়া অফিসের একটি ভুল পূর্বাভাস এবং মাঝসমুদ্রে তুফান মিলিয়ে যাওয়ার এক কাল্পনিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জাহাজের এক বাঙালি যাত্রীর সমুদ্রের পানিতে এক বোতল ‘কুন্তলীন’ তেল ঢেলে দেওয়ার ফলে ঢেউ শান্ত হওয়ার চমৎকার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এতে তুলে ধরা হয়।
এই কল্পকাহিনির নেপথ্যে তরলের পৃষ্ঠটান বা সারফেস টেনশনের মতো একটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক সত্য লুকিয়ে রয়েছে যা প্রাচীন নাবিকেরা আগে থেকেই জানতেন। তৎকালীন সময়ে সুগন্ধি তেল প্রচারের উদ্দেশ্যে হেমেন্দ্রমোহন বসুর চালু করা ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে এই গল্পটি লেখা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলের আবহাওয়া অফিসের অহংকারী ও ভারী যন্ত্রপাতি কীভাবে সাধারণ এক বোতল তেলের কাছে হেরে যায়, তা গল্পটিতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ২০০৪ সালে বিবিসির জনমত জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় এই মহান বিজ্ঞানী সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন। তার অমর আবিষ্কার ও সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালি জাতিকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।





































