স্বাস্থ্য ডেস্ক: বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শারীরিক শক্তির পাশাপাশি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিও ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিমেনশার মতো মস্তিষ্কের ক্ষয় পুরোপুরি রোখার কোনো নিশ্চিত উপায় না থাকলেও কিছু সাধারণ অভ্যাস মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে সাহায্য করে। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ড. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইন জানিয়েছেন যে জীবনযাত্রার ছোট পরিবর্তন বয়সজনিত মানসিক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মস্তিষ্ককে সচল ও তীক্ষ্ণ রাখতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত শরীরচর্চা কেবল হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় না, বরং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এবং মস্তিষ্কের কোষ সচল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে আলঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী জিন থাকে, তাদের জন্য ব্যায়াম করা বিশেষভাবে উপকারী। এছাড়া এটি অনিদ্রা ও বিষণ্নতা দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সরাসরি জড়িত থাকায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যতালিকা বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট অনুসরণ করলে মৃদু মানসিক অবক্ষয় এবং ডিমেনশার গতি ধীর হয়ে আসে। এই ডায়েটে প্রচুর তাজা ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম, জলপাই তেল এবং পরিমিত মাছ ও মুরগির মাংস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় বলে চিকিৎসকেরা তা বর্জন করার কথা বলেছেন।
মস্তিষ্কের দৈনন্দিন কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত গভীর ঘুমের বিকল্প নেই। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারদিনের শেখা তথ্য ও স্মৃতিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার কাজ করে। পাশাপাশি, বই পড়া, লেখালেখি, শব্দছক মেলানো বা দাবা খেলার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে। অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করাও মস্তিষ্কের জন্য একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।





































