ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে তিন তেলবাহী জাহাজে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাইনে আঘাত লেগে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে তিনটি তেলবাহী জলযান মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সূত্রে একটি জাহাজে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ওমানের খাসাব উপকূলের উত্তর-পূর্ব দিকে চলাচলকারী একটি জলযানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তৃতীয় একটি সূত্রের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থাটি।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলের প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে প্রণালি ত্যাগ করার সময় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জাহাজে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, নাবিকদের বর্তমান অবস্থা কিংবা পরিবেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। জলপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো নির্ধারিত অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। রাডার ও নেভিগেশন সিস্টেম পুরোপুরি বন্ধ রেখে চলাচল করায় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা অমান্য করায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত জলযানগুলোকে প্রণালির দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়।

ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে নৌমাইনের আঘাতে আরও একটি জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত জাহাজগুলোর নাম পরিচয় কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। সম্প্রতি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই রুটে এমন ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

ডাইনোসরের আগের যুগে সমুদ্রতলে ছিল এই অদ্ভুত উভচর প্রাণী

হরমুজ প্রণালিতে তিন তেলবাহী জাহাজে আগুন

প্রকাশিত ১০:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাইনে আঘাত লেগে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে তিনটি তেলবাহী জলযান মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সূত্রে একটি জাহাজে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ওমানের খাসাব উপকূলের উত্তর-পূর্ব দিকে চলাচলকারী একটি জলযানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তৃতীয় একটি সূত্রের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থাটি।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলের প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে প্রণালি ত্যাগ করার সময় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জাহাজে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, নাবিকদের বর্তমান অবস্থা কিংবা পরিবেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। জলপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো নির্ধারিত অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। রাডার ও নেভিগেশন সিস্টেম পুরোপুরি বন্ধ রেখে চলাচল করায় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা অমান্য করায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত জলযানগুলোকে প্রণালির দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়।

ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে নৌমাইনের আঘাতে আরও একটি জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত জাহাজগুলোর নাম পরিচয় কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। সম্প্রতি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই রুটে এমন ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।