ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo এলপিজি অপারেটরদের ‘মাফিয়া’ বলা নিয়ে বিইআরসির গণশুনানিতে বিতণ্ডা Logo ১২ ছক্কায় ওমারজাইয়ের রেকর্ড ইনিংস, রাজার সেঞ্চুরির রেকর্ড Logo জাপান সফরে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ: ‘বিগ-বি’র নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ Logo বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান, জানাল টোকিও Logo ইংলিসের অনন্য কীর্তির পর শেষ বেলার উইকেটে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া Logo ইউসিবির ওয়েবভিত্তিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ Logo সিঙ্গাপুরে ২৪০ শ্রমিকের বেতন বকেয়া, ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, অধিকাংশই বাংলাদেশি Logo ‘২০০’ ছুঁয়ে রাশিদ খানের অনন্য কীর্তি Logo সরকারি বাসা থেকে শনিবারের মধ্যে ভাড়াটিয়া অপসারণের নির্দেশ

জাপান সফরে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ: ‘বিগ-বি’র নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফল জাপান সফর শেষে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাতের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এই সফরে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। গত ২৬ অক্টোবর সরকারি সফরে জাপানে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এই সফরটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিগ-বি উদ্যোগকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন এই সফরটিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় আর্থিক নিশ্চয়তার ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট এবং ফিলিস্তিনের অধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি জাপান জোরালো সমর্থন জানিয়েছে যা দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যৌথ ঘোষণায় জাপান বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়েও দুই দেশের অবস্থানের মিল রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে রোহিঙ্গা সংকটে টোকিওর এই ইতিবাচক অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে উভয় দেশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিশাল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যয় ভাগাভাগি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট নজর রাখতে হবে। সফল এই সফর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপান সফরে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ: ‘বিগ-বি’র নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ

প্রকাশিত ০২:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সফল জাপান সফর শেষে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাতের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এই সফরে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। গত ২৬ অক্টোবর সরকারি সফরে জাপানে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এই সফরটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিগ-বি উদ্যোগকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন এই সফরটিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় আর্থিক নিশ্চয়তার ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট এবং ফিলিস্তিনের অধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি জাপান জোরালো সমর্থন জানিয়েছে যা দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যৌথ ঘোষণায় জাপান বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়েও দুই দেশের অবস্থানের মিল রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে রোহিঙ্গা সংকটে টোকিওর এই ইতিবাচক অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে উভয় দেশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিশাল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যয় ভাগাভাগি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট নজর রাখতে হবে। সফল এই সফর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।