কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: চীনের গুইঝাউ প্রদেশে প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে ট্রায়াসিক যুগে বসবাসকারী সম্পূর্ণ সামুদ্রিক এক উভচর প্রাণীর দুটি কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে। গোলাকার, চ্যাপ্টা ও শক্ত বর্মওয়ালা এই প্রাণীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গেরোথোরাক্স ম্যারিটিমাস’ এবং ডাইনোসরের আবির্ভাবের আগেই এটি পৃথিবীতে বিচরণ করত। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। সংবেদনশীল ত্বকের কারণে উভচর প্রাণীরা সাধারণত স্বাদুপানির ওপর নির্ভরশীল হলেও এই আবিষ্কার সেই পুরনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
<প>প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এই প্রাণীটি সমুদ্রের তলদেশে ওত পেতে শিকার শিকার করত এবং এর বিস্তৃত মুখমণ্ডল ও চ্যাপ্টা খুলি ছিল। গবেষকদের মতে, এটি পানির তলদেশের ফাঁকা জায়গা দ্রুত প্রসারিত করে চাপ কমিয়ে শিকারসহ পানি ভেতরের দিকে টেনে নিত। একই জায়গায় প্রায় ২৩ ফুট দীর্ঘ ‘গুইঝাউইখথিওসরাস’ নামের সামুদ্রিক সরীসৃপের জীবাশ্মও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এই বিশাল শীর্ষ শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই প্রাণীটির বিবর্তনে শক্ত হাড়ের বর্ম তৈরি হয়েছিল।প><প>বর্তমান যুগে আট হাজারের বেশি প্রজাতির উভচর প্রাণী থাকলেও তাদের নোনা পানিতে টিকে থাকার ক্ষমতা নেই। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিস-এর প্যালিয়োবায়োলজিস্ট রিয়োসুকে মোতানি জানান, সমুদ্রের নোনাপানিতে অসমোটিক চাপের কারণে উভচরদের ত্বক স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু ‘এক্সাপ্টেশন’ নামক জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাচীন এই প্রাণীটি সেই বাধা জয় করেছিল। মূলত স্বাদুপানির শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তৈরি হওয়া বর্মটি পরবর্তী সময়ে তাদের লোনাপানির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করেছিল।প><প>গবেষকরা হাড় পরীক্ষা করে ট্রায়াসিক যুগের সমুদ্রের পানির রাসায়নিক ছাপ পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে এই প্রাণীটি মহাসাগরেই বেড়ে উঠেছিল ও জীবন কাটিয়েছিল। পেকিং ইউনিভার্সিটির প্যালিয়োন্টোলজিস্ট দা-ইয়ং জিয়াং উল্লেখ করেছেন যে এর মুখে বহু ছোট শঙ্কু আকৃতির দাঁত ছিল। গবেষক মোতানি বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে জলজ দানবদের সঙ্গে এমন উভচর প্রাণীর সহাবস্থানের বিষয়টি সত্যিই গভীর দাগ কেটেছে।প>




































