ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

উখিয়ায় গ্যাসের আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে: বাপেক্স

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি নলকূপ খননকাজের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হয়ে যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা জোর করে নেভানোর চেষ্টা করা হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাপেক্স। গত ২৭ অক্টোবর ইনানীর ছোট ইনানী এলাকায় প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার পর এই অপ্রত্যাশিত গ্যাস ও পানি নির্গমনের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক নিয়মেই গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেওয়া উচিত এবং এটি কৃত্রিমভাবে বন্ধ করলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত চাপ ও তাপের কারণে এই নিয়ন্ত্রণহীন কূপের গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বালি বা অন্য কোনো উপায়ে গ্যাসের নির্গমনের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে সিলেট ও অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ব্লোআউটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাপেক্স কর্মকর্তা জানান, মাটির নিচের গ্যাসের আধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্গমন অব্যাহত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ, ধূমপান এবং আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিন এই গ্যাসের নির্গমন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে যাতে গ্যাসের প্রবাহ নিজে থেকেই কমে আসে। ঘটনাস্থল থেকে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হলেও গ্যাসের নমুনা এখনো সংগ্রহ করা যায়নি। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

জনপ্রিয়

সতীর্থদের মানসিকতায় কষ্ট পেয়েছেন সিকান্দার রাজা

উখিয়ায় গ্যাসের আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে: বাপেক্স

প্রকাশিত ০১:৫২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি নলকূপ খননকাজের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হয়ে যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা জোর করে নেভানোর চেষ্টা করা হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাপেক্স। গত ২৭ অক্টোবর ইনানীর ছোট ইনানী এলাকায় প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার পর এই অপ্রত্যাশিত গ্যাস ও পানি নির্গমনের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক নিয়মেই গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেওয়া উচিত এবং এটি কৃত্রিমভাবে বন্ধ করলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত চাপ ও তাপের কারণে এই নিয়ন্ত্রণহীন কূপের গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বালি বা অন্য কোনো উপায়ে গ্যাসের নির্গমনের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে সিলেট ও অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ব্লোআউটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাপেক্স কর্মকর্তা জানান, মাটির নিচের গ্যাসের আধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্গমন অব্যাহত থাকতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ, ধূমপান এবং আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিন এই গ্যাসের নির্গমন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে যাতে গ্যাসের প্রবাহ নিজে থেকেই কমে আসে। ঘটনাস্থল থেকে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হলেও গ্যাসের নমুনা এখনো সংগ্রহ করা যায়নি। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।