রাজনীতি ডেস্ক: নয়াদিল্লির যমুনা নদীতে সম্প্রতি একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সেখানে দেখা যায়, এক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সরাসরি নদীতে ডুব দিয়ে পানি পান করেছেন। পানি পানের পর তিনি দাবি করেন যে যমুনা নদী এখন সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডের ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
নদীর পানি নিয়ে এই ইতিবাচক দাবির পেছনে আম আদমি পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত যমুনার দূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা চলে আসছে। বিরোধী দলগুলো সবসময়ই বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নদী পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের কেউ একজন নদীকে দূষণমুক্ত বলে দাবি করায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তবে ওই নেতার এমন দাবির পর সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি চোখে বা নদীর পানিতে সামান্য ডুব দিয়ে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দূষণের মাত্রা নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যমুনা নদীর পানি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত দূষিত এবং তা মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ নয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণকে অনেকেই সস্তা প্রচার বা রাজনৈতিক স্টান্ট হিসেবে দেখছেন।
পরিবেশ দূষণের মতো একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে এভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। নদী রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের পরিবর্তে এমন প্রতীকী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনাটি দিল্লির রাজনীতি ও পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়টিকে আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।





































